উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির ‘হলুদ সোনালি বাটা’ (Yellow Goatfish) নামে একটি সামুদ্রিক মাছ। মাছটি আলীপুর মৎস্য বন্দরে আনার পর এর উজ্জ্বল হলুদ-সোনালি রঙ ও আকর্ষণীয় গঠনের কারণে স্থানীয় জেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের সঙ্গে মাছটি আলীপুর মৎস্য বন্দরে আনা হয়। এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে এফবি জারিফ-৪ ট্রলারের জেলে আসাদ মাঝির জালে মাছটি ধরা পড়ে।
ট্রলারের মাঝি আসাদ জানান, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় অপরিচিত মাছটি জালে উঠে আসে। এর রঙ ও গঠন অন্য মাছের তুলনায় ভিন্ন হওয়ায় বন্দরে আনার পর অনেক মানুষ মাছটি দেখতে ভিড় করেন।
স্থানীয়ভাবে মাছটি ‘হলুদ সোনালি বাটা’ বা ‘তোতা বাটা’ নামে পরিচিত। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মো. রুবেল হাওলাদার বলেন, এত সুন্দর রঙের মাছ আগে কাছ থেকে দেখেননি। তাই খবর পেয়ে মাছটি দেখতে বন্দরে এসেছেন।
আরেক দর্শনার্থী মো. সোহেল মিয়া বলেন, কুয়াকাটার গভীর সমুদ্রে মাঝেমধ্যে নতুন নতুন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। এসব মাছ সংরক্ষণ ও গবেষণার আওতায় আনা প্রয়োজন।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Upeneus sulphureus। এটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মাছের একটি প্রজাতি।
তিনি বলেন, মাছটির থুতনির নিচে থাকা দুটি শুঁড়ের (বারবেল) সাহায্যে এটি সমুদ্রের তলদেশের বালি ও কাদা খুঁড়ে খাদ্য সংগ্রহ করে। এ প্রক্রিয়ায় সমুদ্রতলের পুষ্টি উপাদানের পুনঃচক্রায়ন এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি স্থানীয় বাজার ও শুঁটকি শিল্পেও এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে এবং এটি পুষ্টিকর প্রোটিনের ভালো উৎস।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, হলুদ সোনালি বাটা উপকূলীয় ও সামুদ্রিক অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাছ। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এ ধরনের প্রজাতির টেকসই আহরণ ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।