প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
জ্বালানি খাত অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার সকালে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সরকার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। দায়িত্ব গ্রহণের সময় সরকার একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্বল অর্থনীতি, বিভক্ত প্রশাসন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নানা সংকটের মধ্যেও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে আগের সরকারের সুবিধাভোগীরা সক্রিয় রয়েছে। অতীতে নেওয়া অপরিকল্পিত পরিকল্পনা ও প্রকল্পের কারণে জ্বালানি খাত সংকটের মুখে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সরকার সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ
স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের মূলনীতি হলো ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’। রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
চিকিৎসকদের নেতৃত্বে এসব স্বাস্থ্যকর্মী জনগণকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন করবেন বলে জানান তিনি।
চিকিৎসকদের দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস
ড্যাবের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি সরকার বিবেচনা করবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্পতম সময়ে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ থেকে ৩৪ বছর করা, অবসরের বয়সসীমা ৬১ থেকে ৬৫ বছর করা এবং স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবিগুলো বিবেচনার যোগ্য।
এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকদের বিশেষ ভাতা এবং বেসরকারি খাতের চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট ও ন্যায্য বেতন কাঠামো নির্ধারণের দাবিও সরকার বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানোর লক্ষ্য
দেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
তিনি জানান, দ্রুত ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু এবং প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার বিষয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বিভিন্ন বিষয়কে প্রভাবিত করে। তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করে, সেদিকে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকতে হবে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসকদের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হবে না।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মিরাজ হোসেন সুজন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।