প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
বজ্রযোগিনীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: গাছের ছায়া কি কারখানার বর্জ্যের প্রশ্ন ঢাকতে পারে?
একদিন কারখানা গাছ লাগাতে বের হলো।
খবরটি শুনে হয়তো বাতাসও কিছুক্ষণ থমকে ছিল।
কারণ গাছ আর কারখানার সম্পর্ক কখনোই খুব সহজ ছিল না। একপক্ষ মাটির গভীরে শিকড় নামায়, অন্যপক্ষ মাটির ওপরে উঁচু চিমনি তোলে। একপক্ষ নিঃশব্দে অক্সিজেন বিলায়, অন্যপক্ষের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে অভিযোগ ওঠে ধোঁয়া, বর্জ্য আর দূষণের।
তবু পৃথিবী এমনই—এখানে অনেক সময় গাছের চারা হাতে নিয়েই মানুষকে নিজের অতীতের জবাব দিতে হয়।
মুন্সীগঞ্জের বজ্রযোগিনীতে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঘিরে এখন সেই প্রশ্নই ঘুরে বেড়াচ্ছে। মঞ্চে আছে সবুজের কথা, পরিবেশের কথা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা। কিন্তু মঞ্চের বাইরের মানুষ জানতে চাইছে অন্য কিছু।
যে প্রতিষ্ঠান গাছের চারা দিচ্ছে, তার নিজের শিকড় কতটা স্বচ্ছ?
যে হাত সবুজের বার্তা বহন করছে, সেই হাতের বিরুদ্ধে কেন দূষণের অভিযোগ?
একটি গাছ রোপণ করা সহজ।
একটি ভাবমূর্তি রোপণ করা আরও সহজ।
কিন্তু বিশ্বাস জন্মাতে সময় লাগে।
কারণ মানুষ এখন শুধু গাছ দেখে না; গাছের ছায়াটাও দেখে। সেই ছায়ার আড়ালে কী লুকিয়ে আছে, সেটাও জানতে চায়।
অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, তার উত্তর দেবে তদন্ত, নথি আর প্রমাণ।
কিন্তু প্রশ্নেরও নিজস্ব জীবন আছে।
একবার জন্ম নিলে তা সহজে মরে না।
তাই বজ্রযোগিনীর এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এখন শুধু কয়েকশ চারা রোপণের ঘটনা নয়। এটি হয়ে উঠেছে একটি প্রতীকের গল্প—যেখানে একদিকে সবুজের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে পরিবেশগত জবাবদিহির দাবি।
শেষ পর্যন্ত গাছগুলো বড় হবে।
পাতা মেলবে।
ছায়া দেবে।
কিন্তু মানুষের মনে রয়ে যাবে আরেকটি প্রশ্ন—
গাছের ছায়া কি কারখানার বর্জ্যের স্মৃতি ঢেকে দিতে পারে?
প্রকাশক ও সম্পাদক: মিরাজ হোসেন সুজন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।