শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

জনদুর্ভোগ

গ্যাস সংকটে হোটেল-রেস্তোরাঁয় লাকড়ির চুলা, সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন

দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁ, সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে। রাজধানীর অনেক রেস্তোরাঁয় গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে চুলা জ্বলছে না। ফলে বাধ্য হয়ে কাঠের লাকড়ি ও কেরোসিনের চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সিএনজি স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। রাজধানীর বেইলি রোডের একটি রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, গ্যাসের চাপ কম থাকায় নির্ধারিত সময়ে রান্না সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে খাবার পরিবেশনে বিলম্ব হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। একজন রেস্তোরাঁ মালিক বলেন, আগে যে রান্না ৩০ মিনিটে শেষ হতো, এখন লাকড়ি ব্যবহার করায় একই কাজ করতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগছে। ফলে সময়মতো গ্রাহকদের খাবার পরিবেশন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান বিপু বলেন, এখন পর্যন্ত তারা খাবারের দাম বাড়াননি। তবে গ্যাস সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বাড়তি পরিচালন ব্যয়ের কারণে মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া বিকল্প থাকবে না। অন্যদিকে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানী ও আশপাশের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না। একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক জানান, দুই ঘণ্টার বেশি অপেক্ষার পরও ৫০ থেকে ৭০ টাকার বেশি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে দৈনিক আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে। একটি সিএনজি স্টেশনের কর্মী জানান, আগে একটি গাড়িতে ৬০০ টাকার মতো গ্যাস দেওয়া গেলেও এখন একই গাড়িতে ১৫০ থেকে ২০০ টাকার বেশি গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাস সংকটের বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, দেশের একটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালের ত্রুটি মেরামতে বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। তাদের আশা, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রথম ইউনিট চালু করা সম্ভব হবে। এরপর গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ করা যাচ্ছে প্রায় ২৮০ কোটি ঘনফুট। চাহিদা ও সরবরাহের এই বড় ব্যবধানের কারণেই আবাসিক, বাণিজ্যিক ও পরিবহন খাতে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে রেস্তোরাঁ ব্যবসা, পরিবহন খাত এবং শিল্প উৎপাদনে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে। একই সঙ্গে ভোক্তা পর্যায়ে খাবারের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গ্যাস সংকটে হোটেল-রেস্তোরাঁয় লাকড়ির চুলা, সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন