শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধে আটকে ট্রাম্প, বের হওয়ার পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সংকট থেকে বের হওয়ার স্পষ্ট পথ খুঁজে পাচ্ছেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ নিয়ে কূটনৈতিক সমঝোতা ও সামরিক চাপ—দুই বিকল্পের মাঝখানে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছে ওয়াশিংটন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এখন এমন এক পরিস্থিতিতে রয়েছেন যেখানে যেকোনো সিদ্ধান্তই রাজনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একদিকে ইরান ও ওমানের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি, অন্যদিকে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি—দুই পথই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। প্রস্তাবিত সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হতে পারে। তবে এতে ইরান ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর আগে জোর দিয়ে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে উন্মুক্ত থাকতে হবে এবং কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয়। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার রাজনৈতিক চাপ বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, জনসমর্থনের ঘাটতি এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। একজন সাবেক মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য আলোচক বলেন, ট্রাম্পের সামনে এখন একাধিক কঠিন বিকল্প রয়েছে, যার কোনোটিই সহজ সমাধান নয়। সামরিক লক্ষ্য পূরণ নিয়ে প্রশ্ন ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে আসছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা হয়েছে এবং দেশটির নেতৃত্বের ওপর বড় আঘাত হানা হয়েছে। তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, যুদ্ধের ঘোষিত প্রধান লক্ষ্যগুলোর বেশিরভাগ এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। ট্রাম্প সম্প্রতি বড় ধরনের নতুন হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করার কথা জানান এবং কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। তবে একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে সংকট পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। ইরান এর আগে হুমকি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোও এই সংঘাত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের কাছে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা বোঝার একটি সুযোগ হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে বড় প্রশ্ন—যুদ্ধ অব্যাহত রাখা, নাকি কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সংকট থেকে বের হওয়ার পথ খোঁজা।

ইরান যুদ্ধে আটকে ট্রাম্প, বের হওয়ার পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র