শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

মায়ের কোলে থাকা দুই বছরের শিশুকে নিয়ে উধাও বাবা, থানায় অভিযোগ

মায়ের কোলে থাকা দুই বছরের শিশুকে নিয়ে উধাও বাবা, থানায় অভিযোগ

কেশরহাট পৌর যুবদলের নেতা রাকিবুল ইসলাম তুষারকে ঘিরে তৃণমূলে আলোচনা

কেশরহাট পৌর যুবদলের নেতা রাকিবুল ইসলাম তুষারকে ঘিরে তৃণমূলে আলোচনা

লৌহজংয়ে পুলিশের পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

লৌহজংয়ে পুলিশের পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে, নীলফামারীর নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে, নীলফামারীর নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

সিংড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পালিত, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

সিংড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পালিত, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

লৌহজংয়ের কুমারভোগে বিএনপির বিজয় র‍্যালি, শতাধিক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণ

লৌহজংয়ের কুমারভোগে বিএনপির বিজয় র‍্যালি, শতাধিক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণ

সিরাজদিখানে অভির বিরুদ্ধে ফের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

সিরাজদিখানে অভির বিরুদ্ধে ফের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

জুলাই অভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জে ছাত্রশিবিরের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

জুলাই অভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জে ছাত্রশিবিরের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

নির্মাণ শুরু হয়নি, তবুও পরামর্শক ব্যয়ে ২৩১ কোটি টাকা! বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথে প্রশ্ন

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
নির্মাণ শুরু হয়নি, তবুও পরামর্শক ব্যয়ে ২৩১ কোটি টাকা! বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথে প্রশ্ন
নির্মাণ শুরু হয়নি, তবুও পরামর্শক ব্যয়ে ২৩১ কোটি টাকা! বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথে প্রশ্ন
0:00 / 0:00
1x

বহু প্রতীক্ষিত বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্প এখনো নির্মাণ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। তবে প্রকল্পের পরামর্শক (কনসালটেন্সি) খাতের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩১ কোটি ৭১ লাখ টাকায়। প্রকল্পের প্রথম অনুমোদনের সময় এই খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৬৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অর্থাৎ নির্মাণকাজ শুরুর আগেই পরামর্শক ব্যয় বেড়েছে তিন গুণের বেশি।

দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই রেলপথকে অনেকে ‘কাগজের প্রকল্প’ বলেও সমালোচনা করেছেন। তবে সম্প্রতি ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। বগুড়া অংশের ৫৬টি মৌজায় যৌথ তদন্ত শেষ হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে সরকার প্রায় ১ হাজার ৯৬৯ কোটি ১০ লাখ টাকা ছাড় করেছে।

ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের মধ্যে চেক বিতরণ শুরু হয়েছে।

নির্মাণের আগেই বেড়েছে ব্যয়

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে সম্প্রতি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পরামর্শক ব্যয় বৃদ্ধির কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।

কমিশনের কর্মকর্তারা জানতে চান, কেন মাত্র একটি খাতেই প্রায় ১৬৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হচ্ছে এবং এই অর্থ কোন কোন কাজে ব্যবহার করা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থায়ন কাঠামোর পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থার শর্ত, অতিরিক্ত কারিগরি যাচাই এবং দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্প পিছিয়ে যাওয়ার কারণে পরামর্শক ব্যয় বেড়েছে।

৫৫৭৯ কোটি থেকে বেড়ে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি

২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও এখনো মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।

বর্তমানে সংশোধিত প্রস্তাবে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৬ দশমিক ২ কিলোমিটার। এতে ৯টি নতুন স্টেশন, গুরুত্বপূর্ণ সেতু, কালভার্ট, সিগন্যালিং ব্যবস্থা ও অন্যান্য রেল অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

জমি অধিগ্রহণে অগ্রগতি

বগুড়া জেলার সদর, শাজাহানপুর, শেরপুর ও কাহালু উপজেলার ৪৮১ দশমিক ০৯ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৫৬টি মৌজার যৌথ তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ে জমির মালিকানা যাচাই, দাগ নম্বর পরীক্ষা, ভিডিও ধারণসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।

কমবে ঢাকা-বগুড়া রেল দূরত্ব

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগে বড় পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে যমুনা সেতু হয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়। নতুন রেলপথ চালু হলে প্রায় ১১২ কিলোমিটার পথ কমে আসবে।

ফলে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেনের সময় সাশ্রয় হবে প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা।

অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ চালু হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও শিল্প অর্থনীতিতে গতি আসবে। আলু, ধান, ভুট্টা, সবজি, মাছ ও দুগ্ধজাত পণ্য কম খরচে দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ওপর চাপ কমবে, কমবে যানজট ও পরিবহন ব্যয়।

তবে প্রকল্পের সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হওয়ার পর দরপত্র, ঠিকাদার নিয়োগ ও নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে। অতীতে সময়ক্ষেপণের অভিজ্ঞতা থাকায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


নির্মাণ শুরু হয়নি, তবুও পরামর্শক ব্যয়ে ২৩১ কোটি টাকা! বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথে প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বহু প্রতীক্ষিত বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্প এখনো নির্মাণ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। তবে প্রকল্পের পরামর্শক (কনসালটেন্সি) খাতের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩১ কোটি ৭১ লাখ টাকায়। প্রকল্পের প্রথম অনুমোদনের সময় এই খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৬৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অর্থাৎ নির্মাণকাজ শুরুর আগেই পরামর্শক ব্যয় বেড়েছে তিন গুণের বেশি।

দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই রেলপথকে অনেকে ‘কাগজের প্রকল্প’ বলেও সমালোচনা করেছেন। তবে সম্প্রতি ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। বগুড়া অংশের ৫৬টি মৌজায় যৌথ তদন্ত শেষ হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে সরকার প্রায় ১ হাজার ৯৬৯ কোটি ১০ লাখ টাকা ছাড় করেছে।

ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের মধ্যে চেক বিতরণ শুরু হয়েছে।

নির্মাণের আগেই বেড়েছে ব্যয়

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে সম্প্রতি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পরামর্শক ব্যয় বৃদ্ধির কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।

কমিশনের কর্মকর্তারা জানতে চান, কেন মাত্র একটি খাতেই প্রায় ১৬৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হচ্ছে এবং এই অর্থ কোন কোন কাজে ব্যবহার করা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থায়ন কাঠামোর পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থার শর্ত, অতিরিক্ত কারিগরি যাচাই এবং দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্প পিছিয়ে যাওয়ার কারণে পরামর্শক ব্যয় বেড়েছে।

৫৫৭৯ কোটি থেকে বেড়ে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি

২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও এখনো মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।

বর্তমানে সংশোধিত প্রস্তাবে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৬ দশমিক ২ কিলোমিটার। এতে ৯টি নতুন স্টেশন, গুরুত্বপূর্ণ সেতু, কালভার্ট, সিগন্যালিং ব্যবস্থা ও অন্যান্য রেল অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

জমি অধিগ্রহণে অগ্রগতি

বগুড়া জেলার সদর, শাজাহানপুর, শেরপুর ও কাহালু উপজেলার ৪৮১ দশমিক ০৯ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৫৬টি মৌজার যৌথ তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ে জমির মালিকানা যাচাই, দাগ নম্বর পরীক্ষা, ভিডিও ধারণসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।

কমবে ঢাকা-বগুড়া রেল দূরত্ব

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগে বড় পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে যমুনা সেতু হয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়। নতুন রেলপথ চালু হলে প্রায় ১১২ কিলোমিটার পথ কমে আসবে।

ফলে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেনের সময় সাশ্রয় হবে প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা।

অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ চালু হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও শিল্প অর্থনীতিতে গতি আসবে। আলু, ধান, ভুট্টা, সবজি, মাছ ও দুগ্ধজাত পণ্য কম খরচে দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ওপর চাপ কমবে, কমবে যানজট ও পরিবহন ব্যয়।

তবে প্রকল্পের সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হওয়ার পর দরপত্র, ঠিকাদার নিয়োগ ও নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে। অতীতে সময়ক্ষেপণের অভিজ্ঞতা থাকায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে।


BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।