শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সৈয়দপুরে মরুর দুম্বার খামার, ৬৫ দুম্বায় স্বপ্ন দেখছেন রবিউল

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
সৈয়দপুরে মরুর দুম্বার খামার, ৬৫ দুম্বায় স্বপ্ন দেখছেন রবিউল
সৈয়দপুরে মরুর দুম্বার খামার, ৬৫ দুম্বায় স্বপ্ন দেখছেন রবিউল
0:00 / 0:00
1x

নীলফামারীর সৈয়দপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে গড়ে উঠেছে মরুভূমির প্রাণী দুম্বার খামার। স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ভালোভাবেই বেড়ে উঠছে দুম্বাগুলো। মাত্র দুটি দুম্বা দিয়ে শুরু করা খামারে এখন রয়েছে ৬৫টি দুম্বা। এই খামার গড়ে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যুবক রবিউল ইসলাম।

জানা গেছে, ফেসবুক ও ইউটিউব দেখে শখের বশে দুম্বা পালনে আগ্রহী হন রবিউল। পরে প্রবাসী বড় ভাইয়ের পরামর্শে তুর্কি জাতের দুম্বা সংগ্রহ করেন তিনি। প্রথমে দুটি এবং পরে আরও ছয়টি দুম্বা কিনতে তার খরচ হয় প্রায় ১২ লাখ টাকা।

খামারে আনার ছয় মাসের মধ্যেই দুম্বাগুলো বাচ্চা দেওয়া শুরু করে। সাড়ে তিন বছরে তার খামারে দুম্বার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫টিতে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা।

রবিউল ইসলাম জানান, দুম্বার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। প্রতিদিন একটি দুম্বার খাবারে খরচ হয় ২০ থেকে ৩০ টাকা। কাঁচা ঘাস, ভুসি ও খৈল খেতে পছন্দ করে দুম্বা। নিয়মিত পরিচর্যা ও সময়মতো প্রতিষেধক দিলে এগুলো দ্রুত বেড়ে ওঠে।

তিনি বলেন, “প্রতিটি দুম্বা বছরে দুটি করে বাচ্চা দেয়। তিন মাস বয়সী একটি বাচ্চার ওজন ৩৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত হয়। বর্তমানে একটি দুম্বার দাম দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত।”

সরেজমিনে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের কাঠারিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, খামারে সারি সারি দুম্বা ঘাস খাচ্ছে। তাদের খাবারের জন্য রয়েছে কাঁচা ঘাস, ভুসি ও খৈলের ব্যবস্থা। খামারে দুম্বাগুলোর পরিচর্যায় পাঁচজন কর্মচারী কাজ করছেন।

দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই দুম্বা দেখতে আসছেন। খামার দেখে অনেকে দুম্বা পালনে আগ্রহী হচ্ছেন।

রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী হাসান আল মামুন জানান, রবিউলের খামার দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তিন মাস বয়সী একটি দুম্বার বাচ্চা কেনার জন্য তিনি অগ্রিম টাকা দিয়েছেন।

স্থানীয় দর্শনার্থী রইজ উদ্দিন সরকার বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদে গরুর পরিবর্তে দুম্বা কোরবানি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি। এজন্য রবিউলের খামারে এসে দুম্বা পছন্দ করেছেন।

খামারের কর্মচারী কালু মিয়া বলেন, “রবিউল ভাইয়ের দুম্বার খামারের কারণে আমার মতো পাঁচটি পরিবারের কর্মসংস্থান হয়েছে।”

রবিউল ইসলাম জানান, কোরবানির জন্য সারাদেশ থেকে দুম্বার চাহিদা আসছে। ফোন, মেসেঞ্জার ও ইমোর মাধ্যমে অনেকে যোগাযোগ করছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হক বলেন, “রবিউল ইসলাম একজন শিক্ষিত খামারি। চাকরির পেছনে না ছুটে তিনি দুম্বার খামার গড়ে তুলেছেন। প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তার সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে কেউ দুম্বার খামার করতে চাইলে সহযোগিতা করা হবে।”

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


সৈয়দপুরে মরুর দুম্বার খামার, ৬৫ দুম্বায় স্বপ্ন দেখছেন রবিউল

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর সৈয়দপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে গড়ে উঠেছে মরুভূমির প্রাণী দুম্বার খামার। স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ভালোভাবেই বেড়ে উঠছে দুম্বাগুলো। মাত্র দুটি দুম্বা দিয়ে শুরু করা খামারে এখন রয়েছে ৬৫টি দুম্বা। এই খামার গড়ে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যুবক রবিউল ইসলাম।

জানা গেছে, ফেসবুক ও ইউটিউব দেখে শখের বশে দুম্বা পালনে আগ্রহী হন রবিউল। পরে প্রবাসী বড় ভাইয়ের পরামর্শে তুর্কি জাতের দুম্বা সংগ্রহ করেন তিনি। প্রথমে দুটি এবং পরে আরও ছয়টি দুম্বা কিনতে তার খরচ হয় প্রায় ১২ লাখ টাকা।

খামারে আনার ছয় মাসের মধ্যেই দুম্বাগুলো বাচ্চা দেওয়া শুরু করে। সাড়ে তিন বছরে তার খামারে দুম্বার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫টিতে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা।

রবিউল ইসলাম জানান, দুম্বার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। প্রতিদিন একটি দুম্বার খাবারে খরচ হয় ২০ থেকে ৩০ টাকা। কাঁচা ঘাস, ভুসি ও খৈল খেতে পছন্দ করে দুম্বা। নিয়মিত পরিচর্যা ও সময়মতো প্রতিষেধক দিলে এগুলো দ্রুত বেড়ে ওঠে।

তিনি বলেন, “প্রতিটি দুম্বা বছরে দুটি করে বাচ্চা দেয়। তিন মাস বয়সী একটি বাচ্চার ওজন ৩৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত হয়। বর্তমানে একটি দুম্বার দাম দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত।”

সরেজমিনে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের কাঠারিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, খামারে সারি সারি দুম্বা ঘাস খাচ্ছে। তাদের খাবারের জন্য রয়েছে কাঁচা ঘাস, ভুসি ও খৈলের ব্যবস্থা। খামারে দুম্বাগুলোর পরিচর্যায় পাঁচজন কর্মচারী কাজ করছেন।

দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই দুম্বা দেখতে আসছেন। খামার দেখে অনেকে দুম্বা পালনে আগ্রহী হচ্ছেন।

রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী হাসান আল মামুন জানান, রবিউলের খামার দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তিন মাস বয়সী একটি দুম্বার বাচ্চা কেনার জন্য তিনি অগ্রিম টাকা দিয়েছেন।

স্থানীয় দর্শনার্থী রইজ উদ্দিন সরকার বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদে গরুর পরিবর্তে দুম্বা কোরবানি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি। এজন্য রবিউলের খামারে এসে দুম্বা পছন্দ করেছেন।

খামারের কর্মচারী কালু মিয়া বলেন, “রবিউল ভাইয়ের দুম্বার খামারের কারণে আমার মতো পাঁচটি পরিবারের কর্মসংস্থান হয়েছে।”

রবিউল ইসলাম জানান, কোরবানির জন্য সারাদেশ থেকে দুম্বার চাহিদা আসছে। ফোন, মেসেঞ্জার ও ইমোর মাধ্যমে অনেকে যোগাযোগ করছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হক বলেন, “রবিউল ইসলাম একজন শিক্ষিত খামারি। চাকরির পেছনে না ছুটে তিনি দুম্বার খামার গড়ে তুলেছেন। প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তার সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে কেউ দুম্বার খামার করতে চাইলে সহযোগিতা করা হবে।”


BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।