শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

মায়ের কোলে থাকা দুই বছরের শিশুকে নিয়ে উধাও বাবা, থানায় অভিযোগ

মায়ের কোলে থাকা দুই বছরের শিশুকে নিয়ে উধাও বাবা, থানায় অভিযোগ

কেশরহাট পৌর যুবদলের নেতা রাকিবুল ইসলাম তুষারকে ঘিরে তৃণমূলে আলোচনা

কেশরহাট পৌর যুবদলের নেতা রাকিবুল ইসলাম তুষারকে ঘিরে তৃণমূলে আলোচনা

লৌহজংয়ে পুলিশের পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

লৌহজংয়ে পুলিশের পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে, নীলফামারীর নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে, নীলফামারীর নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

সিংড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পালিত, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

সিংড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পালিত, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

লৌহজংয়ের কুমারভোগে বিএনপির বিজয় র‍্যালি, শতাধিক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণ

লৌহজংয়ের কুমারভোগে বিএনপির বিজয় র‍্যালি, শতাধিক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণ

সিরাজদিখানে অভির বিরুদ্ধে ফের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

সিরাজদিখানে অভির বিরুদ্ধে ফের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

জুলাই অভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জে ছাত্রশিবিরের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

জুলাই অভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জে ছাত্রশিবিরের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার নবজাতকের বৈধ অভিভাবক হলেন নিঃসন্তান রবিউল-সুমাইয়া দম্পতি

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার নবজাতকের বৈধ অভিভাবক হলেন নিঃসন্তান রবিউল-সুমাইয়া দম্পতি
ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার নবজাতকের বৈধ অভিভাবক হলেন নিঃসন্তান রবিউল-সুমাইয়া দম্পতি
0:00 / 0:00
1x

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিন-সংলগ্ন স্থান থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া সেই কন্যা নবজাতকের বৈধ অভিভাবকত্ব পেয়েছেন ১১ বছর ধরে নিঃসন্তান দম্পতি রবিউল ইসলাম ও সুমাইয়া আক্তার।

শিশুটির ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার নামে ১০ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রবিউল ইসলাম। পাশাপাশি আইনগতভাবে নিজের উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ দেওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন গভীর রাতে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিন-সংলগ্ন স্থান থেকে জীবিত অবস্থায় এক কন্যা নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এরপর নবজাতকের চিকিৎসা, নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করে।

গত ৬ জুলাই জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভায় নবজাতকের বৈধ অভিভাবকত্ব প্রদান বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে ৯ জুলাই বোর্ডের সদস্যদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে শিশুটির সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করে গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের লক্ষীপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম ও সুমাইয়া আক্তার দম্পতির কাছে বৈধ অভিভাবকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

১১ বছরের অপেক্ষার পর সন্তান

সামাজিক তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ১১ বছর আগে বিয়ে হলেও রবিউল-সুমাইয়া দম্পতির কোনো সন্তান হয়নি। সন্তান লাভের আশায় তারা প্রায় পাঁচ বছর ধরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন। অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হলেও তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবার

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রবিউল ইসলাম পেশায় একজন রংয়ের ঠিকাদার। তাঁর বার্ষিক আনুমানিক আয় প্রায় ৬ লাখ টাকা। তাঁর বাবার একটি মুদি দোকান রয়েছে, যা পরিবারের অতিরিক্ত আয়ের উৎস।

অন্যদিকে সুমাইয়ার বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্য। ভবেরচর হাসপাতালের সামনে তাদের পরিবারের চারটি দোকান রয়েছে, যেখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২৭ হাজার টাকা ভাড়া আসে। উভয় পরিবারের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

১০ লাখ টাকার এফডিআর ও উত্তরাধিকার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি

তদন্তকালে রবিউল ইসলাম জানান, শিশুটির ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে তিনি তার নামে ১০ লাখ টাকার এফডিআর করবেন। পাশাপাশি বৈধ অভিভাবকত্ব পাওয়ার পর শিশুটিকে নিজের উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আইন অনুযায়ী সম্পত্তির অংশ প্রদান করবেন।

এ ছাড়া শিশুটির চিকিৎসা, শিক্ষা ও ভরণ-পোষণের যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

হাসপাতালেই ছিলেন সুমাইয়া

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নবজাতক উদ্ধারের পর থেকেই রবিউল-সুমাইয়া দম্পতি শিশুটির পাশে রয়েছেন। বিশেষ করে সুমাইয়া আক্তার উদ্ধারের দিন থেকে হাসপাতালেই অবস্থান করছেন এবং একবারের জন্যও বাড়িতে যাননি। শিশুটির প্রতি তাঁর মমত্ববোধ ও নিরলস সেবাযত্ন তদন্ত প্রতিবেদনে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

বর্তমানে শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাত পেলেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আরও ৪ থেকে ৫ দিন পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার নবজাতকের বৈধ অভিভাবক হলেন নিঃসন্তান রবিউল-সুমাইয়া দম্পতি

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিন-সংলগ্ন স্থান থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া সেই কন্যা নবজাতকের বৈধ অভিভাবকত্ব পেয়েছেন ১১ বছর ধরে নিঃসন্তান দম্পতি রবিউল ইসলাম ও সুমাইয়া আক্তার।

শিশুটির ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার নামে ১০ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রবিউল ইসলাম। পাশাপাশি আইনগতভাবে নিজের উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ দেওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন গভীর রাতে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিন-সংলগ্ন স্থান থেকে জীবিত অবস্থায় এক কন্যা নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এরপর নবজাতকের চিকিৎসা, নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করে।

গত ৬ জুলাই জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভায় নবজাতকের বৈধ অভিভাবকত্ব প্রদান বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে ৯ জুলাই বোর্ডের সদস্যদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে শিশুটির সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করে গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের লক্ষীপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম ও সুমাইয়া আক্তার দম্পতির কাছে বৈধ অভিভাবকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

১১ বছরের অপেক্ষার পর সন্তান

সামাজিক তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ১১ বছর আগে বিয়ে হলেও রবিউল-সুমাইয়া দম্পতির কোনো সন্তান হয়নি। সন্তান লাভের আশায় তারা প্রায় পাঁচ বছর ধরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন। অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হলেও তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবার

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রবিউল ইসলাম পেশায় একজন রংয়ের ঠিকাদার। তাঁর বার্ষিক আনুমানিক আয় প্রায় ৬ লাখ টাকা। তাঁর বাবার একটি মুদি দোকান রয়েছে, যা পরিবারের অতিরিক্ত আয়ের উৎস।

অন্যদিকে সুমাইয়ার বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্য। ভবেরচর হাসপাতালের সামনে তাদের পরিবারের চারটি দোকান রয়েছে, যেখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২৭ হাজার টাকা ভাড়া আসে। উভয় পরিবারের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

১০ লাখ টাকার এফডিআর ও উত্তরাধিকার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি

তদন্তকালে রবিউল ইসলাম জানান, শিশুটির ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে তিনি তার নামে ১০ লাখ টাকার এফডিআর করবেন। পাশাপাশি বৈধ অভিভাবকত্ব পাওয়ার পর শিশুটিকে নিজের উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আইন অনুযায়ী সম্পত্তির অংশ প্রদান করবেন।

এ ছাড়া শিশুটির চিকিৎসা, শিক্ষা ও ভরণ-পোষণের যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

হাসপাতালেই ছিলেন সুমাইয়া

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নবজাতক উদ্ধারের পর থেকেই রবিউল-সুমাইয়া দম্পতি শিশুটির পাশে রয়েছেন। বিশেষ করে সুমাইয়া আক্তার উদ্ধারের দিন থেকে হাসপাতালেই অবস্থান করছেন এবং একবারের জন্যও বাড়িতে যাননি। শিশুটির প্রতি তাঁর মমত্ববোধ ও নিরলস সেবাযত্ন তদন্ত প্রতিবেদনে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

বর্তমানে শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাত পেলেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আরও ৪ থেকে ৫ দিন পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে।


BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।