শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক জ্বালানি চুক্তিতে ট্রাম্পের সম্মতি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক জ্বালানি চুক্তিতে ট্রাম্পের সম্মতি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বিতর্ক
সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক জ্বালানি চুক্তিতে ট্রাম্পের সম্মতি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বিতর্ক
0:00 / 0:00
1x

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। চুক্তিটি কার্যকর হলে সৌদি আরব নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের (Uranium Enrichment) সুযোগ পেতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিস্তাররোধ (Non-Proliferation) নীতিতে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন শিগগিরই চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য কংগ্রেসে পাঠাতে পারে। অনুমোদন পেলে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টিংহাউসসহ বিভিন্ন কোম্পানি সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে কাজ করতে পারবে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে এবং জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনতে একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে আগ্রহী। তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—চুক্তির আওতায় সৌদি আরব নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কম মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত হলেও একই প্রযুক্তি উচ্চমাত্রায় ব্যবহার করলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী উপাদানও উৎপাদন করা সম্ভব।

কেন উদ্বেগ?

২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা '১২৩ চুক্তি'-তে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে সৌদি আরবের সম্ভাব্য চুক্তিতে সেই সীমাবদ্ধতা থাকছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) অতিরিক্ত তদারকি প্রটোকল (Additional Protocol) বাধ্যতামূলক নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রভাব বজায় রাখতে সহায়ক হবে এবং পারমাণবিক শিল্পে মার্কিন নেতৃত্ব শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন

মার্কিন আইনে এ ধরনের পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি কংগ্রেসে উপস্থাপন করতে হয়। কংগ্রেস চাইলে নির্দিষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে চুক্তিটি আটকে দিতে পারে।

তবে ইতোমধ্যেই কিছু আইনপ্রণেতা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক চুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ভবিষ্যতে এটি সৌদি আরবের পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতার পথ উন্মুক্ত করতে পারে, যদিও বর্তমান চুক্তিটি বেসামরিক ব্যবহারের জন্যই প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক জ্বালানি চুক্তিতে ট্রাম্পের সম্মতি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। চুক্তিটি কার্যকর হলে সৌদি আরব নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের (Uranium Enrichment) সুযোগ পেতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিস্তাররোধ (Non-Proliferation) নীতিতে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন শিগগিরই চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য কংগ্রেসে পাঠাতে পারে। অনুমোদন পেলে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টিংহাউসসহ বিভিন্ন কোম্পানি সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে কাজ করতে পারবে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে এবং জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনতে একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে আগ্রহী। তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—চুক্তির আওতায় সৌদি আরব নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কম মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত হলেও একই প্রযুক্তি উচ্চমাত্রায় ব্যবহার করলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী উপাদানও উৎপাদন করা সম্ভব।

কেন উদ্বেগ?

২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা '১২৩ চুক্তি'-তে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে সৌদি আরবের সম্ভাব্য চুক্তিতে সেই সীমাবদ্ধতা থাকছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) অতিরিক্ত তদারকি প্রটোকল (Additional Protocol) বাধ্যতামূলক নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রভাব বজায় রাখতে সহায়ক হবে এবং পারমাণবিক শিল্পে মার্কিন নেতৃত্ব শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন

মার্কিন আইনে এ ধরনের পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি কংগ্রেসে উপস্থাপন করতে হয়। কংগ্রেস চাইলে নির্দিষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে চুক্তিটি আটকে দিতে পারে।

তবে ইতোমধ্যেই কিছু আইনপ্রণেতা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক চুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ভবিষ্যতে এটি সৌদি আরবের পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতার পথ উন্মুক্ত করতে পারে, যদিও বর্তমান চুক্তিটি বেসামরিক ব্যবহারের জন্যই প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স

BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।