শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

হরমুজে আটকা জাহাজে জন্ম নেওয়া সামুদ্রিক প্রাণী ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
হরমুজে আটকা জাহাজে জন্ম নেওয়া সামুদ্রিক প্রাণী ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে
হরমুজে আটকা জাহাজে জন্ম নেওয়া সামুদ্রিক প্রাণী ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে
0:00 / 0:00
1x

হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা হাজারো জাহাজের গায়ে জন্ম নেওয়া আগ্রাসী সামুদ্রিক প্রজাতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের পরিবেশগত সংকট তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সামুদ্রিক বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় দেড় হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষকদের আশঙ্কা, এসব জাহাজ পুনরায় চলাচল শুরু করলে জাহাজের তলদেশে জমে থাকা সামুদ্রিক জীব বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে পৌঁছে যেতে পারে। এতে নতুন অঞ্চলে আগ্রাসী প্রজাতির বিস্তার ঘটার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

‘সুপার-স্প্রেডার’ পরিস্থিতির আশঙ্কা

‘বায়োলজিক্যাল ইনভেশনস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার ঘটনা সামুদ্রিক আগ্রাসী প্রজাতি ছড়িয়ে পড়ার জন্য একটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স (UMCES)-এর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল। এতে উডস হোল ওশানোগ্রাফিক ইনস্টিটিউশন (WHOI)-এর গবেষকরাও যুক্ত ছিলেন।

গবেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় নোঙর করে থাকার কারণে জাহাজের নিচের অংশে শৈবাল, বার্নাকল, ঝিনুকসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক জীবের স্তর তৈরি হয়। পরে জাহাজ চলাচল শুরু করলে এসব জীব নতুন পরিবেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বায়োফাউলিং কী?

জাহাজের পানির নিচের অংশে সামুদ্রিক জীব জমে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় বায়োফাউলিং (Biofouling)।

প্রথমে অণুজীবের স্তর তৈরি হয়। এরপর সেখানে শৈবাল, ছোট ক্রাস্টেশিয়ান, বার্নাকল ও বিভিন্ন খোলসযুক্ত প্রাণী বসতি গড়ে তোলে।

গবেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক জাহাজ আটকে থাকার ঘটনা আগে খুব কম দেখা গেছে। ফলে এটি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগ্রাসী সামুদ্রিক প্রজাতি নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রজাতির সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (IMO) নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো জাহাজ ৩০ দিনের বেশি সময় অলস অবস্থায় থাকলে পুনরায় যাত্রার আগে বায়োফাউলিং নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

গবেষণায় বলা হয়েছে, জাহাজের গায়ে সামান্য জীব জমলেও পানির প্রতিরোধ বেড়ে যায়। এতে জ্বালানি খরচ ও কার্বন নিঃসরণ বাড়তে পারে।

এশিয়ান গ্রিন মাশেলের উদাহরণ

গবেষকরা আগ্রাসী সামুদ্রিক প্রজাতির উদাহরণ হিসেবে এশিয়ান গ্রিন মাশেল-এর কথা উল্লেখ করেছেন।

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ অঞ্চলের এই ঝিনুক ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় প্রজাতির জন্য হুমকি তৈরি করেছে।

ঝুঁকি কমাতে করণীয়

গবেষকরা জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বায়োফাউলিং নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাদের মতে, যাত্রার আগে জাহাজের তলদেশ পরিষ্কার করা, উচ্চ ঝুঁকির বন্দরে নজরদারি বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ সংকটের প্রভাব শুধু জ্বালানি ও বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সামুদ্রিক পরিবেশেও পড়তে পারে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


হরমুজে আটকা জাহাজে জন্ম নেওয়া সামুদ্রিক প্রাণী ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা হাজারো জাহাজের গায়ে জন্ম নেওয়া আগ্রাসী সামুদ্রিক প্রজাতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের পরিবেশগত সংকট তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সামুদ্রিক বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় দেড় হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষকদের আশঙ্কা, এসব জাহাজ পুনরায় চলাচল শুরু করলে জাহাজের তলদেশে জমে থাকা সামুদ্রিক জীব বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে পৌঁছে যেতে পারে। এতে নতুন অঞ্চলে আগ্রাসী প্রজাতির বিস্তার ঘটার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

‘সুপার-স্প্রেডার’ পরিস্থিতির আশঙ্কা

‘বায়োলজিক্যাল ইনভেশনস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার ঘটনা সামুদ্রিক আগ্রাসী প্রজাতি ছড়িয়ে পড়ার জন্য একটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স (UMCES)-এর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল। এতে উডস হোল ওশানোগ্রাফিক ইনস্টিটিউশন (WHOI)-এর গবেষকরাও যুক্ত ছিলেন।

গবেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় নোঙর করে থাকার কারণে জাহাজের নিচের অংশে শৈবাল, বার্নাকল, ঝিনুকসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক জীবের স্তর তৈরি হয়। পরে জাহাজ চলাচল শুরু করলে এসব জীব নতুন পরিবেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বায়োফাউলিং কী?

জাহাজের পানির নিচের অংশে সামুদ্রিক জীব জমে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় বায়োফাউলিং (Biofouling)।

প্রথমে অণুজীবের স্তর তৈরি হয়। এরপর সেখানে শৈবাল, ছোট ক্রাস্টেশিয়ান, বার্নাকল ও বিভিন্ন খোলসযুক্ত প্রাণী বসতি গড়ে তোলে।

গবেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক জাহাজ আটকে থাকার ঘটনা আগে খুব কম দেখা গেছে। ফলে এটি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগ্রাসী সামুদ্রিক প্রজাতি নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রজাতির সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (IMO) নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো জাহাজ ৩০ দিনের বেশি সময় অলস অবস্থায় থাকলে পুনরায় যাত্রার আগে বায়োফাউলিং নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

গবেষণায় বলা হয়েছে, জাহাজের গায়ে সামান্য জীব জমলেও পানির প্রতিরোধ বেড়ে যায়। এতে জ্বালানি খরচ ও কার্বন নিঃসরণ বাড়তে পারে।

এশিয়ান গ্রিন মাশেলের উদাহরণ

গবেষকরা আগ্রাসী সামুদ্রিক প্রজাতির উদাহরণ হিসেবে এশিয়ান গ্রিন মাশেল-এর কথা উল্লেখ করেছেন।

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ অঞ্চলের এই ঝিনুক ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় প্রজাতির জন্য হুমকি তৈরি করেছে।

ঝুঁকি কমাতে করণীয়

গবেষকরা জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বায়োফাউলিং নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাদের মতে, যাত্রার আগে জাহাজের তলদেশ পরিষ্কার করা, উচ্চ ঝুঁকির বন্দরে নজরদারি বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ সংকটের প্রভাব শুধু জ্বালানি ও বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সামুদ্রিক পরিবেশেও পড়তে পারে।


BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।