শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

ওমান উপকূলে রুশ তেলবাহী ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ছে, পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
ওমান উপকূলে রুশ তেলবাহী ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ছে, পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা
ওমান উপকূলে রুশ তেলবাহী ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ছে, পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা
0:00 / 0:00
1x

ওমানের উপকূলের কাছে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনে তেলের স্তর আরও বিস্তৃত হয়েছে, যা উপকূলীয় পরিবেশ ও সংরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ক্যারোলিন বেজেঙ্গি (Caroline Bezengi) নামের ট্যাংকারটি রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নোভোরোসিস্ক থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে সর্বশেষ যাত্রা শুরু করেছিল।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুন ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুকাল্লা বন্দরের কাছে জাহাজটি প্রথমবারের মতো সমস্যার কথা জানায়। প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হয়, জাহাজে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।

গত ২৮ জুলাই ধারণ করা স্যাটেলাইট ছবিতে জাহাজটির পাশে সমুদ্রে গাঢ় রঙের তেলের স্তর এবং ওমান উপকূলের কাছাকাছি আল-কিবলিয়াহ দ্বীপের উত্তর দিকে তেলের বিস্তৃতি দেখা গেছে। দ্বীপটি একটি সংরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকার অংশ।

ডাচ শান্তিবিষয়ক সংস্থা প্যাক্স (PAX)-এর রিমোট সেন্সিং বিশেষজ্ঞ উইম জভাইনেনবার্গ স্যাটেলাইট চিত্র পর্যালোচনা করে বলেন, জাহাজের অন্তত একটি হালের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখান থেকে ক্রুড অয়েল সমুদ্রে বেরিয়ে আসছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জুলাই-আগস্টে ওমান অঞ্চলের মৌসুমি বায়ুর কারণে উত্তাল সমুদ্র ও প্রবল স্রোত তেল দ্রুত বিস্তৃত করতে পারে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করবে।

রয়টার্সের যাচাই অনুযায়ী, স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা জাহাজটি ক্যারোলিন বেজেঙ্গি। এর ডেকের গঠন ও রঙ সংরক্ষিত আর্কাইভ ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত এই জাহাজের বিরুদ্ধে রুশ জ্বালানি পরিবহনের অভিযোগ রয়েছে।

শিপিং ডাটাবেজে জাহাজটির মালিক হিসেবে সাংহাইভিত্তিক রেন্টুর শিপম্যানেজমেন্ট-এর নাম উল্লেখ থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ওমানের পরিবহন, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

সামুদ্রিক পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, স্যাটেলাইট চিত্রে জাহাজটি একদিকে কাত হয়ে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে জাহাজটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (IMO) জানিয়েছে, জাহাজটি এখনো ভেঙে যায়নি। তবে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়া যে তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ব্যবহার করে, এই ট্যাংকারটি সেই বহরের অংশ। বহরের অনেক জাহাজই পুরোনো এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকে।

তবে জাহাজটির ক্ষতির কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। এটি ইউক্রেনের সম্ভাব্য হামলার ফল নাকি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব—তা স্পষ্ট হয়নি।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


ওমান উপকূলে রুশ তেলবাহী ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ছে, পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ওমানের উপকূলের কাছে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনে তেলের স্তর আরও বিস্তৃত হয়েছে, যা উপকূলীয় পরিবেশ ও সংরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ক্যারোলিন বেজেঙ্গি (Caroline Bezengi) নামের ট্যাংকারটি রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নোভোরোসিস্ক থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে সর্বশেষ যাত্রা শুরু করেছিল।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুন ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুকাল্লা বন্দরের কাছে জাহাজটি প্রথমবারের মতো সমস্যার কথা জানায়। প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হয়, জাহাজে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।

গত ২৮ জুলাই ধারণ করা স্যাটেলাইট ছবিতে জাহাজটির পাশে সমুদ্রে গাঢ় রঙের তেলের স্তর এবং ওমান উপকূলের কাছাকাছি আল-কিবলিয়াহ দ্বীপের উত্তর দিকে তেলের বিস্তৃতি দেখা গেছে। দ্বীপটি একটি সংরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকার অংশ।

ডাচ শান্তিবিষয়ক সংস্থা প্যাক্স (PAX)-এর রিমোট সেন্সিং বিশেষজ্ঞ উইম জভাইনেনবার্গ স্যাটেলাইট চিত্র পর্যালোচনা করে বলেন, জাহাজের অন্তত একটি হালের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখান থেকে ক্রুড অয়েল সমুদ্রে বেরিয়ে আসছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জুলাই-আগস্টে ওমান অঞ্চলের মৌসুমি বায়ুর কারণে উত্তাল সমুদ্র ও প্রবল স্রোত তেল দ্রুত বিস্তৃত করতে পারে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করবে।

রয়টার্সের যাচাই অনুযায়ী, স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা জাহাজটি ক্যারোলিন বেজেঙ্গি। এর ডেকের গঠন ও রঙ সংরক্ষিত আর্কাইভ ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত এই জাহাজের বিরুদ্ধে রুশ জ্বালানি পরিবহনের অভিযোগ রয়েছে।

শিপিং ডাটাবেজে জাহাজটির মালিক হিসেবে সাংহাইভিত্তিক রেন্টুর শিপম্যানেজমেন্ট-এর নাম উল্লেখ থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ওমানের পরিবহন, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

সামুদ্রিক পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, স্যাটেলাইট চিত্রে জাহাজটি একদিকে কাত হয়ে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে জাহাজটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (IMO) জানিয়েছে, জাহাজটি এখনো ভেঙে যায়নি। তবে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়া যে তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ব্যবহার করে, এই ট্যাংকারটি সেই বহরের অংশ। বহরের অনেক জাহাজই পুরোনো এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকে।

তবে জাহাজটির ক্ষতির কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। এটি ইউক্রেনের সম্ভাব্য হামলার ফল নাকি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব—তা স্পষ্ট হয়নি।

BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।