শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

হরমুজ সংকটে বিশ্বে তেলের দামে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা, বাড়ছে জ্বালানি সংকট

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
হরমুজ সংকটে বিশ্বে তেলের দামে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা, বাড়ছে জ্বালানি সংকট
হরমুজ সংকটে বিশ্বে তেলের দামে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা, বাড়ছে জ্বালানি সংকট
0:00 / 0:00
1x

বিশ্বজুড়ে আবারও তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা।

রোববার প্রকাশিত সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপাতত আন্তর্জাতিক তেলবাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। কৌশলগত তেলের মজুত কমে আসা, শোধনাগারের সক্ষমতা হ্রাস এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হলে বিশ্ব তেলবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। যদিও জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে আবারও জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির সময় কয়েক সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকায় সেখানে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছে যায়। এতে তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকট কিছুটা কমে আসে।

এ ছাড়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীন যুদ্ধ শুরুর আগেই বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত করেছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অতিরিক্ত তেল কেনার চাপ এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই স্বস্তি সাময়িক।

তাদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে শুধু অপরিশোধিত তেলের দামই নয়, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পরিশোধিত জ্বালানির বাজারেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে।

পরিশোধিত জ্বালানির সংকটও বাড়ছে

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধ চলাকালে ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৩০টি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনা পুরোপুরি সচল হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার একাধিক শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি প্রায় ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট ডিজেল রপ্তানির প্রায় ১২ শতাংশই রাশিয়া থেকে আসত।

চীনও পরিবেশগত নীতি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শোধন কার্যক্রমে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। ফলে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মতো জ্বালানির বৈশ্বিক সরবরাহে চাপ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতাও সীমিত

বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল উৎপাদক হলেও যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত তেলের বড় অংশ হালকা ধরনের, যা মূলত পেট্রোল উৎপাদনের জন্য উপযোগী। বিপরীতে ডিজেল, জেট ফুয়েল ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি উৎপাদনে মধ্যপ্রাচ্যের ভারী অপরিশোধিত তেলের প্রয়োজন হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রও এখনো আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

অনিশ্চয়তা কাটছে না

সিএনএনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক গোল্ডম্যানের মতে, এবার হরমুজ প্রণালিতে আগের মতো বিপুল পরিমাণ তেল আটকে নেই। ফলে প্রণালি খুলে গেলেও দ্রুত বড় সরবরাহ বাজারে আসার সম্ভাবনা কম। একই সঙ্গে লোহিত সাগর হয়ে বিকল্প পরিবহন পথও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা গেলে বিশ্ব তেলবাজারে বড় ধরনের ধাক্কা এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


হরমুজ সংকটে বিশ্বে তেলের দামে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা, বাড়ছে জ্বালানি সংকট

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিশ্বজুড়ে আবারও তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা।

রোববার প্রকাশিত সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপাতত আন্তর্জাতিক তেলবাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। কৌশলগত তেলের মজুত কমে আসা, শোধনাগারের সক্ষমতা হ্রাস এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হলে বিশ্ব তেলবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। যদিও জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে আবারও জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির সময় কয়েক সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকায় সেখানে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছে যায়। এতে তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকট কিছুটা কমে আসে।

এ ছাড়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীন যুদ্ধ শুরুর আগেই বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত করেছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অতিরিক্ত তেল কেনার চাপ এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই স্বস্তি সাময়িক।

তাদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে শুধু অপরিশোধিত তেলের দামই নয়, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পরিশোধিত জ্বালানির বাজারেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে।

পরিশোধিত জ্বালানির সংকটও বাড়ছে

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধ চলাকালে ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৩০টি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনা পুরোপুরি সচল হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার একাধিক শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি প্রায় ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট ডিজেল রপ্তানির প্রায় ১২ শতাংশই রাশিয়া থেকে আসত।

চীনও পরিবেশগত নীতি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শোধন কার্যক্রমে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। ফলে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মতো জ্বালানির বৈশ্বিক সরবরাহে চাপ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতাও সীমিত

বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল উৎপাদক হলেও যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত তেলের বড় অংশ হালকা ধরনের, যা মূলত পেট্রোল উৎপাদনের জন্য উপযোগী। বিপরীতে ডিজেল, জেট ফুয়েল ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি উৎপাদনে মধ্যপ্রাচ্যের ভারী অপরিশোধিত তেলের প্রয়োজন হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রও এখনো আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

অনিশ্চয়তা কাটছে না

সিএনএনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক গোল্ডম্যানের মতে, এবার হরমুজ প্রণালিতে আগের মতো বিপুল পরিমাণ তেল আটকে নেই। ফলে প্রণালি খুলে গেলেও দ্রুত বড় সরবরাহ বাজারে আসার সম্ভাবনা কম। একই সঙ্গে লোহিত সাগর হয়ে বিকল্প পরিবহন পথও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা গেলে বিশ্ব তেলবাজারে বড় ধরনের ধাক্কা এড়ানো সম্ভব হতে পারে।


BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।