শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া ভারতের দ্বিমুখী নীতির বহিঃপ্রকাশ : রিজভী

হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া ভারতের দ্বিমুখী নীতির বহিঃপ্রকাশ : রিজভী

নারায়ণগঞ্জে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করল মহানগর বিএনপি

নারায়ণগঞ্জে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করল মহানগর বিএনপি

‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু করার মুরোদ নেই, বিদেশ থেকে শুধু উঁকি–ঝুঁকি দিচ্ছে’—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু করার মুরোদ নেই, বিদেশ থেকে শুধু উঁকি–ঝুঁকি দিচ্ছে’—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এনসিপিকে রাশেদ খানের পরামর্শ, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বাদ রেখে যান’

এনসিপিকে রাশেদ খানের পরামর্শ, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বাদ রেখে যান’

এনসিপিকে রাশেদ খানের পরামর্শ, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বাদ রেখে যান’

এনসিপিকে রাশেদ খানের পরামর্শ, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বাদ রেখে যান’

সামাজিক মাধ্যম দূষণে ‘প্রকল্প’ নিয়ে কাজ করছে কেউ কেউ: তথ্যমন্ত্রী

সামাজিক মাধ্যম দূষণে ‘প্রকল্প’ নিয়ে কাজ করছে কেউ কেউ: তথ্যমন্ত্রী

ইউএনওকে ফুল দিয়ে বরণ করলেন জামায়াতের এমপি, প্রটোকল নিয়ে বিতর্ক

ইউএনওকে ফুল দিয়ে বরণ করলেন জামায়াতের এমপি, প্রটোকল নিয়ে বিতর্ক

১৭ বছরের আন্দোলনেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল: রিজভী

১৭ বছরের আন্দোলনেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল: রিজভী

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে দেশে ফিরবেন না শেখ হাসিনা: আওয়ামী লীগের দুই নেতার দাবি

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে দেশে ফিরবেন না শেখ হাসিনা: আওয়ামী লীগের দুই নেতার দাবি
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে দেশে ফিরবেন না শেখ হাসিনা: আওয়ামী লীগের দুই নেতার দাবি
0:00 / 0:00
1x

ডিসেম্বরের ফেরার ঘোষণা নিয়ে সংশয়, আইনি পথও সংকুচিত—দাবি দলীয় নেতাদের

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন বলে সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতারাও দেশে ফিরবেন।

তবে আওয়ামী লীগের দুই জ্যেষ্ঠ নেতার বরাতে দ্য ডেল্টাগ্রামের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনা বা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দেশে ফেরার পরিকল্পনা বাস্তবে নেই। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনা ঢাকায় ফিরতে চান না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। পরে আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অনুপস্থিতিতে তার বিচার হয় এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার বিষয়ে দলীয় এক নেতা বলেন, “মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন না।”

ভুটানের রাজধানী থিম্পুর কাছাকাছি অবস্থানরত ওই নেতা দাবি করেন, শেখ হাসিনা কারাগারে যেতে চান না, মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার প্রশ্নও আসে না।

কলকাতার নিউ টাউনের জামশেদজি টাটা রোড এলাকায় অবস্থানরত আরেক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, শেখ হাসিনার আইনি সুযোগ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। ভারতের আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে তারা জানতে পেরেছেন, এখন তার সামনে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। তবে শেখ হাসিনা আশঙ্কা করছেন, সেই আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।

কর্মীদের মনোবল ফেরাতে ফেরার বার্তা?

আওয়ামী লীগের ওই দুই নেতা দাবি করেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা মূলত দলের তৃণমূল কর্মীদের সক্রিয় করতে দেওয়া হচ্ছে।

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার আওয়ামী লীগ কর্মী হাজী ফরিদউদ্দিন ব্যাপারী বলেন, “গত দুই বছর ধরে শুনছি তিনি ফিরবেন। তিনি বলেছিলেন আমাদের ছেড়ে যাবেন না। কিন্তু গত ২৪ মাসে কোনো আওয়ামী লীগ নেতা জানতে চাননি আমি কীভাবে বেঁচে আছি।”

তিনি জানান, এবারের জাতীয় নির্বাচনে তিনি বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাকে ভোট দেওয়ার প্রমাণও দেখিয়েছেন।

জুলাইয়ের আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগের ভূমিকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমরা ভুল করেছি, এর মূল্য দিতে হবে।”

চট্টগ্রামের বড়খাইন এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মাহমুদ আলী মনে করেন, দলকে পুনর্গঠন করতে অন্তত এক দশক সময় লাগতে পারে। তবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তা সম্ভব হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আইনি পথ প্রায় শেষ: ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার শেখ মাহদি বলেন, শেখ হাসিনার সামনে এখন রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন ছাড়া আর কোনো আইনি সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ২১ ধারা অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। তবে সাজা ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা করা হয় ২০২৫ সালের নভেম্বরে। ফলে ২০২৬ সালের জুলাই নাগাদ আপিলের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

তবে প্রসিকিউশন পক্ষ রায়ের একটি অংশের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আপিল করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এসব দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে দেশে ফিরবেন না শেখ হাসিনা: আওয়ামী লীগের দুই নেতার দাবি

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ডিসেম্বরের ফেরার ঘোষণা নিয়ে সংশয়, আইনি পথও সংকুচিত—দাবি দলীয় নেতাদের

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন বলে সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতারাও দেশে ফিরবেন।

তবে আওয়ামী লীগের দুই জ্যেষ্ঠ নেতার বরাতে দ্য ডেল্টাগ্রামের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনা বা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দেশে ফেরার পরিকল্পনা বাস্তবে নেই। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনা ঢাকায় ফিরতে চান না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। পরে আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অনুপস্থিতিতে তার বিচার হয় এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার বিষয়ে দলীয় এক নেতা বলেন, “মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন না।”

ভুটানের রাজধানী থিম্পুর কাছাকাছি অবস্থানরত ওই নেতা দাবি করেন, শেখ হাসিনা কারাগারে যেতে চান না, মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার প্রশ্নও আসে না।

কলকাতার নিউ টাউনের জামশেদজি টাটা রোড এলাকায় অবস্থানরত আরেক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, শেখ হাসিনার আইনি সুযোগ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। ভারতের আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে তারা জানতে পেরেছেন, এখন তার সামনে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। তবে শেখ হাসিনা আশঙ্কা করছেন, সেই আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।

কর্মীদের মনোবল ফেরাতে ফেরার বার্তা?

আওয়ামী লীগের ওই দুই নেতা দাবি করেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা মূলত দলের তৃণমূল কর্মীদের সক্রিয় করতে দেওয়া হচ্ছে।

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার আওয়ামী লীগ কর্মী হাজী ফরিদউদ্দিন ব্যাপারী বলেন, “গত দুই বছর ধরে শুনছি তিনি ফিরবেন। তিনি বলেছিলেন আমাদের ছেড়ে যাবেন না। কিন্তু গত ২৪ মাসে কোনো আওয়ামী লীগ নেতা জানতে চাননি আমি কীভাবে বেঁচে আছি।”

তিনি জানান, এবারের জাতীয় নির্বাচনে তিনি বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাকে ভোট দেওয়ার প্রমাণও দেখিয়েছেন।

জুলাইয়ের আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগের ভূমিকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমরা ভুল করেছি, এর মূল্য দিতে হবে।”

চট্টগ্রামের বড়খাইন এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মাহমুদ আলী মনে করেন, দলকে পুনর্গঠন করতে অন্তত এক দশক সময় লাগতে পারে। তবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তা সম্ভব হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আইনি পথ প্রায় শেষ: ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার শেখ মাহদি বলেন, শেখ হাসিনার সামনে এখন রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন ছাড়া আর কোনো আইনি সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ২১ ধারা অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। তবে সাজা ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা করা হয় ২০২৫ সালের নভেম্বরে। ফলে ২০২৬ সালের জুলাই নাগাদ আপিলের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

তবে প্রসিকিউশন পক্ষ রায়ের একটি অংশের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আপিল করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এসব দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।