শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

টঙ্গিবাড়ীতে মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সোনারং জোড়া মঠ পরিদর্শন

টঙ্গিবাড়ীতে মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সোনারং জোড়া মঠ পরিদর্শন

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে অনুমতি, তীব্র ক্ষোভ জানাল বাংলাদেশ সরকার

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে অনুমতি, তীব্র ক্ষোভ জানাল বাংলাদেশ সরকার

ভিআইপি-সিআইপিসহ সবার জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা তল্লাশি: বিমানমন্ত্রী

ভিআইপি-সিআইপিসহ সবার জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা তল্লাশি: বিমানমন্ত্রী

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, বৃহস্পতিবার থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, বৃহস্পতিবার থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গুমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পাবে ক্ষতিপূরণ, অনুমোদন পেল ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া

গুমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পাবে ক্ষতিপূরণ, অনুমোদন পেল ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া

গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই: মির্জা ফখরুল

গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই: মির্জা ফখরুল

২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল

২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল

বন্যায় প্লাবিত ৫৯ উপজেলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
বন্যায় প্লাবিত ৫৯ উপজেলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১
বন্যায় প্লাবিত ৫৯ উপজেলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১
0:00 / 0:00
1x

টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাত জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সর্বশেষ হিসাবে ৫৯টি উপজেলা, ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ২টায় প্রকাশিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সাত জেলার বন্যা পরিস্থিতি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এসব জেলার ৫৯টি উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে রয়েছে।

প্রাণহানির সর্বোচ্চ কক্সবাজারে

জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারে। সেখানে মারা গেছেন ২৮ জন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এছাড়া আহত হয়েছেন ২৪ জন এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

অন্যদিকে চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আহতদের মধ্যে চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।

আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ

বন্যাকবলিত মানুষের জন্য সাত জেলায় মোট ১ হাজার ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে এসব কেন্দ্রে ৩৮ হাজার ৪২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

জেলা ভিত্তিক পরিস্থিতি

চট্টগ্রাম:
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। জেলার ১৬টি উপজেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এখানে ৫৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ হাজার ৯০০ মানুষ অবস্থান করছেন। জেলায় ১৩ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।

কক্সবাজার:
১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

বান্দরবান:
সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন অবস্থান করছেন। এখানে ৬ জন নিহত এবং ২ জন আহত হয়েছেন।

রাঙামাটি:
জেলার ৯টি উপজেলা বন্যাকবলিত। ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। জেলায় প্রাণহানি হয়েছে ৩ জনের।

খাগড়াছড়ি:
৯টি উপজেলা বন্যার কবলে পড়েছে। ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। একজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

মৌলভীবাজার:
৫টি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এ জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

হবিগঞ্জ:
জেলার তিনটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্যাকবলিত সাত জেলার জন্য ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলাভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে রয়েছে—

  • চট্টগ্রাম: ৬৫ লাখ টাকা ও ১,২০০ মেট্রিক টন চাল
  • কক্সবাজার: ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল
  • রাঙামাটি: ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল
  • বান্দরবান: ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল
  • মৌলভীবাজার: ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল
  • অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


বন্যায় প্লাবিত ৫৯ উপজেলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাত জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সর্বশেষ হিসাবে ৫৯টি উপজেলা, ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ২টায় প্রকাশিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সাত জেলার বন্যা পরিস্থিতি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এসব জেলার ৫৯টি উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে রয়েছে।

প্রাণহানির সর্বোচ্চ কক্সবাজারে

জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারে। সেখানে মারা গেছেন ২৮ জন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এছাড়া আহত হয়েছেন ২৪ জন এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

অন্যদিকে চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আহতদের মধ্যে চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।

আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ

বন্যাকবলিত মানুষের জন্য সাত জেলায় মোট ১ হাজার ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে এসব কেন্দ্রে ৩৮ হাজার ৪২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

জেলা ভিত্তিক পরিস্থিতি

চট্টগ্রাম:
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। জেলার ১৬টি উপজেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এখানে ৫৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ হাজার ৯০০ মানুষ অবস্থান করছেন। জেলায় ১৩ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।

কক্সবাজার:
১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

বান্দরবান:
সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন অবস্থান করছেন। এখানে ৬ জন নিহত এবং ২ জন আহত হয়েছেন।

রাঙামাটি:
জেলার ৯টি উপজেলা বন্যাকবলিত। ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। জেলায় প্রাণহানি হয়েছে ৩ জনের।

খাগড়াছড়ি:
৯টি উপজেলা বন্যার কবলে পড়েছে। ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। একজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

মৌলভীবাজার:
৫টি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এ জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

হবিগঞ্জ:
জেলার তিনটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্যাকবলিত সাত জেলার জন্য ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলাভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে রয়েছে—

  • চট্টগ্রাম: ৬৫ লাখ টাকা ও ১,২০০ মেট্রিক টন চাল
  • কক্সবাজার: ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল
  • রাঙামাটি: ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল
  • বান্দরবান: ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল
  • মৌলভীবাজার: ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল
  • অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।