শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

টঙ্গিবাড়ীতে মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সোনারং জোড়া মঠ পরিদর্শন

টঙ্গিবাড়ীতে মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সোনারং জোড়া মঠ পরিদর্শন

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে অনুমতি, তীব্র ক্ষোভ জানাল বাংলাদেশ সরকার

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে অনুমতি, তীব্র ক্ষোভ জানাল বাংলাদেশ সরকার

ভিআইপি-সিআইপিসহ সবার জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা তল্লাশি: বিমানমন্ত্রী

ভিআইপি-সিআইপিসহ সবার জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা তল্লাশি: বিমানমন্ত্রী

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, বৃহস্পতিবার থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, বৃহস্পতিবার থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গুমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পাবে ক্ষতিপূরণ, অনুমোদন পেল ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া

গুমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পাবে ক্ষতিপূরণ, অনুমোদন পেল ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া

গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই: মির্জা ফখরুল

গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই: মির্জা ফখরুল

২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল

২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল

দেশের ৯৫% চিনিতেও মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক! নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
দেশের ৯৫% চিনিতেও মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক! নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য
দেশের ৯৫% চিনিতেও মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক! নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য
0:00 / 0:00
1x

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্ট, দুধ ও সয়াবিন তেলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর এবার চিনিতেও ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার অস্তিত্ব মিলেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা চিনির ৯৫ শতাংশ নমুনাতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস-এ প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন গবেষক সাদিয়া আফরিন, নায়ন হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান। ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজার থেকে সংগ্রহ করা সাত ধরনের ব্র্যান্ডেড ও খোলা চিনির নমুনা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি কেজি চিনিতে ২১০ থেকে ৫০৮টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ব্র্যান্ডেড চিনিতে প্রতি কেজিতে গড়ে ৩২২টি এবং খোলা চিনিতে গড়ে ৪০৩টি কণা শনাক্ত হয়েছে। যদিও পরিসংখ্যানগতভাবে এ পার্থক্য খুব বেশি নয়, তবুও খোলা চিনিতে দূষণের মাত্রা তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে।

গবেষণায় শনাক্ত হওয়া প্লাস্টিক কণার আকার ছিল প্রায় ১২ মাইক্রোমিটার থেকে ৩ দশমিক ১৯ মিলিমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ ছিল আঁশজাতীয় (ফাইবার), ২১ শতাংশ খণ্ডাকৃতির (ফ্র্যাগমেন্ট), ১১ শতাংশ পাতলা স্তর (ফিল্ম) এবং ৫ শতাংশ ছিল গোলাকার (বিড) কণা।

গবেষকদের মতে, এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক মূলত প্লাস্টিকের প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে খাদ্যে মিশে যেতে পারে।

রাসায়নিক বিশ্লেষণে অ্যাক্রাইলোনাইট্রাইল বিউটাডিয়েন স্টাইরিন (ABS), পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), পলিইথিলিন টেরেফথ্যালেট (PET), পলিটেট্রাফ্লুরোইথিলিন (PTFE), উচ্চ ঘনত্বের পলিইথিলিন (HDPE) এবং নাইলনসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক উপাদান শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণায় সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শুধু চিনি থেকেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন শরীরের প্রতি কেজি ওজনের বিপরীতে গড়ে ০.২১৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারেন। নিয়মিত এভাবে প্লাস্টিক কণা শরীরে প্রবেশ করলে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

গবেষকদের ধারণা, দেশে চিনি উৎপাদন, পরিশোধন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাইপ, ফিল্টার, কনভেয়ার বেল্ট, বস্তা ও প্যাকেজিং উপকরণ থেকে এ দূষণ ঘটতে পারে। এছাড়া খোলা অবস্থায় বিক্রির সময় বাতাসের মাধ্যমেও প্লাস্টিক কণা চিনিতে মিশে যেতে পারে।

তারা খাদ্য উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, উন্নত পরিশোধন ব্যবস্থা চালু এবং নিয়মিত মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছেন। একই সঙ্গে খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করারও আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টুথপেস্ট, দুধ, সয়াবিন তেল এবং এখন চিনিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়া দেশে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে প্লাস্টিক দূষণের ব্যাপ্তি নির্দেশ করে। তাই বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করে নিয়মিত নজরদারি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং আরও বিস্তৃত গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


দেশের ৯৫% চিনিতেও মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক! নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্ট, দুধ ও সয়াবিন তেলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর এবার চিনিতেও ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার অস্তিত্ব মিলেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা চিনির ৯৫ শতাংশ নমুনাতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস-এ প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন গবেষক সাদিয়া আফরিন, নায়ন হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান। ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজার থেকে সংগ্রহ করা সাত ধরনের ব্র্যান্ডেড ও খোলা চিনির নমুনা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি কেজি চিনিতে ২১০ থেকে ৫০৮টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ব্র্যান্ডেড চিনিতে প্রতি কেজিতে গড়ে ৩২২টি এবং খোলা চিনিতে গড়ে ৪০৩টি কণা শনাক্ত হয়েছে। যদিও পরিসংখ্যানগতভাবে এ পার্থক্য খুব বেশি নয়, তবুও খোলা চিনিতে দূষণের মাত্রা তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে।

গবেষণায় শনাক্ত হওয়া প্লাস্টিক কণার আকার ছিল প্রায় ১২ মাইক্রোমিটার থেকে ৩ দশমিক ১৯ মিলিমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ ছিল আঁশজাতীয় (ফাইবার), ২১ শতাংশ খণ্ডাকৃতির (ফ্র্যাগমেন্ট), ১১ শতাংশ পাতলা স্তর (ফিল্ম) এবং ৫ শতাংশ ছিল গোলাকার (বিড) কণা।

গবেষকদের মতে, এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক মূলত প্লাস্টিকের প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে খাদ্যে মিশে যেতে পারে।

রাসায়নিক বিশ্লেষণে অ্যাক্রাইলোনাইট্রাইল বিউটাডিয়েন স্টাইরিন (ABS), পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), পলিইথিলিন টেরেফথ্যালেট (PET), পলিটেট্রাফ্লুরোইথিলিন (PTFE), উচ্চ ঘনত্বের পলিইথিলিন (HDPE) এবং নাইলনসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক উপাদান শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণায় সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শুধু চিনি থেকেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন শরীরের প্রতি কেজি ওজনের বিপরীতে গড়ে ০.২১৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারেন। নিয়মিত এভাবে প্লাস্টিক কণা শরীরে প্রবেশ করলে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

গবেষকদের ধারণা, দেশে চিনি উৎপাদন, পরিশোধন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাইপ, ফিল্টার, কনভেয়ার বেল্ট, বস্তা ও প্যাকেজিং উপকরণ থেকে এ দূষণ ঘটতে পারে। এছাড়া খোলা অবস্থায় বিক্রির সময় বাতাসের মাধ্যমেও প্লাস্টিক কণা চিনিতে মিশে যেতে পারে।

তারা খাদ্য উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, উন্নত পরিশোধন ব্যবস্থা চালু এবং নিয়মিত মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছেন। একই সঙ্গে খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করারও আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টুথপেস্ট, দুধ, সয়াবিন তেল এবং এখন চিনিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়া দেশে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে প্লাস্টিক দূষণের ব্যাপ্তি নির্দেশ করে। তাই বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করে নিয়মিত নজরদারি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং আরও বিস্তৃত গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।