শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

মুন্সীগঞ্জবাসীর জন্য খুলছে দ্রুত ঢাকায় যাতায়াতের নতুন দুয়ার

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
মুন্সীগঞ্জবাসীর জন্য খুলছে দ্রুত ঢাকায় যাতায়াতের নতুন দুয়ার
মুন্সীগঞ্জবাসীর জন্য খুলছে দ্রুত ঢাকায় যাতায়াতের নতুন দুয়ার
0:00 / 0:00
1x

প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২-এর রুট এলাইনমেন্টে নারায়ণগঞ্জ শহরকে অন্তর্ভুক্ত করার সরকারি সিদ্ধান্তে মুন্সীগঞ্জবাসীর জন্য দ্রুত, নিরাপদ ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে মুন্সীগঞ্জ সদর, টংগিবাড়ী, শ্রীনগর, সিরাজদিখান, লৌহজং ও গজারিয়া উপজেলার লাখো মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

গত ১৫ জুন জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২-এর রুটে নারায়ণগঞ্জ শহরকে যুক্ত করা হয়েছে।

এমআরটি লাইন-২-এর প্রস্তাবিত রুট

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মেট্রোরেলটির সম্ভাব্য রুট হবে গাবতলী, ঢাকা উদ্যান, বছিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড, ঝিগাতলা, সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ট, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাজলা, ডেমরা, সাইনবোর্ড, ভূইঘর, জালকুড়ি, শিবুমার্কেট হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত।

মন্ত্রী জানান, গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৩০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা খুঁজতে পরিকল্পনা কমিশনে পিডিপিপি পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। নীতিগত অনুমোদন ও অর্থায়নের সিদ্ধান্তের পর প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হবে।

এমআরটি লাইন-৪ নিয়েও অগ্রগতি

একই সময়ে কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৪ নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কে-এক্সিম ব্যাংক পরিচালিত ওই সমীক্ষায় প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার ৮৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

সমীক্ষা প্রতিবেদন যাচাই শেষে তা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর কাছে পাঠানো হবে। এরপর প্রকল্প বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।

মুন্সীগঞ্জবাসীর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

স্থানীয়দের মতে, মুন্সীগঞ্জ জেলার অন্তত ৫ থেকে ৭ লাখ মানুষ প্রতিদিন চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করেন। তাই নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত জেলার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের সৈয়দপুর থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত নির্মাণাধীন উড়াল সড়কের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটি চালু হলে মুন্সীগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জে পৌঁছাতে সময় আরও কম লাগবে। ভবিষ্যতে মেট্রোরেল চালু হলে সেখান থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে।

অর্থনীতি ও যোগাযোগে ইতিবাচক প্রভাব

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সড়কপথের যানজট কমবে, যাতায়াতের সময় ও ব্যয় হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।

মুন্সীগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত প্রকল্পটির অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত হলে রাজধানীর সঙ্গে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হবে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


মুন্সীগঞ্জবাসীর জন্য খুলছে দ্রুত ঢাকায় যাতায়াতের নতুন দুয়ার

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২-এর রুট এলাইনমেন্টে নারায়ণগঞ্জ শহরকে অন্তর্ভুক্ত করার সরকারি সিদ্ধান্তে মুন্সীগঞ্জবাসীর জন্য দ্রুত, নিরাপদ ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে মুন্সীগঞ্জ সদর, টংগিবাড়ী, শ্রীনগর, সিরাজদিখান, লৌহজং ও গজারিয়া উপজেলার লাখো মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

গত ১৫ জুন জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২-এর রুটে নারায়ণগঞ্জ শহরকে যুক্ত করা হয়েছে।

এমআরটি লাইন-২-এর প্রস্তাবিত রুট

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মেট্রোরেলটির সম্ভাব্য রুট হবে গাবতলী, ঢাকা উদ্যান, বছিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড, ঝিগাতলা, সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ট, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাজলা, ডেমরা, সাইনবোর্ড, ভূইঘর, জালকুড়ি, শিবুমার্কেট হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত।

মন্ত্রী জানান, গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৩০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা খুঁজতে পরিকল্পনা কমিশনে পিডিপিপি পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। নীতিগত অনুমোদন ও অর্থায়নের সিদ্ধান্তের পর প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হবে।

এমআরটি লাইন-৪ নিয়েও অগ্রগতি

একই সময়ে কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৪ নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কে-এক্সিম ব্যাংক পরিচালিত ওই সমীক্ষায় প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার ৮৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

সমীক্ষা প্রতিবেদন যাচাই শেষে তা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর কাছে পাঠানো হবে। এরপর প্রকল্প বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।

মুন্সীগঞ্জবাসীর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

স্থানীয়দের মতে, মুন্সীগঞ্জ জেলার অন্তত ৫ থেকে ৭ লাখ মানুষ প্রতিদিন চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করেন। তাই নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত জেলার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের সৈয়দপুর থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত নির্মাণাধীন উড়াল সড়কের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটি চালু হলে মুন্সীগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জে পৌঁছাতে সময় আরও কম লাগবে। ভবিষ্যতে মেট্রোরেল চালু হলে সেখান থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে।

অর্থনীতি ও যোগাযোগে ইতিবাচক প্রভাব

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সড়কপথের যানজট কমবে, যাতায়াতের সময় ও ব্যয় হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।

মুন্সীগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত প্রকল্পটির অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত হলে রাজধানীর সঙ্গে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হবে।

BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।