শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

যুদ্ধ ও জলবায়ু সংকটের মধ্যেই তেল কোম্পানির ৯৩ বিলিয়ন ডলার মুনাফা

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
যুদ্ধ ও জলবায়ু সংকটের মধ্যেই তেল কোম্পানির ৯৩ বিলিয়ন ডলার মুনাফা
যুদ্ধ ও জলবায়ু সংকটের মধ্যেই তেল কোম্পানির ৯৩ বিলিয়ন ডলার মুনাফা
0:00 / 0:00
1x

ইরান সংঘাত ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার সুযোগে বিশ্বের আটটি বড় তেল কোম্পানি মাত্র তিন মাসে প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬৯ বিলিয়ন পাউন্ড) মুনাফা করেছে। একই সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে।

গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল মুনাফা অর্জন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি Saudi Aramco, BP, Shell plc, Chevron ও ExxonMobilসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের একই সময় এসব কোম্পানির সম্মিলিত মুনাফা ছিল প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার। এবার তা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতি মিনিটে এসব কোম্পানি গড়ে ৭ লাখ ডলারের বেশি মুনাফা করেছে।

যুদ্ধের বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারের বেশি উঠে যায়। সরবরাহ সংকট ও বাজারের অস্থিরতা তেল কোম্পানিগুলোর আয় বাড়িয়ে দেয়।

সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আরামকো। প্রতিষ্ঠানটি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি নিট আয় দেখিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি।

জলবায়ু সংকটের মধ্যে মুনাফা নিয়ে সমালোচনা

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে লাভবান হলেও এসব কোম্পানি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির দায় যথেষ্টভাবে নিচ্ছে না।

গ্লোবাল উইটনেসের জীবাশ্ম জ্বালানি বিষয়ক কর্মকর্তা প্যাট্রিক গ্যালি বলেন, “বিশ্বজুড়ে দাবানল, খরা ও জ্বালানি ব্যয়ের চাপের মধ্যে বড় তেল কোম্পানিগুলোর বিপুল মুনাফা প্রশ্ন তৈরি করছে।”

তিনি বলেন, তেল কোম্পানিগুলোকে জলবায়ু ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থ দিতে হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

বিপর্যস্ত বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ ও দাবানল

এদিকে চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ছাড়া এমন পরিস্থিতি প্রায় অসম্ভব ছিল।

তীব্র গরমে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে হাজারো মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল ও গ্রিসে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা গেছে।

জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান সাইমন স্টিয়েল বলেন, “সমাধান পরিষ্কার—কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যবহার দ্রুত কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যেতে হবে।”

তেল কোম্পানির বক্তব্য

তেল কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

বিপি জানিয়েছে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তারা তেল উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি গত কয়েক বছরে সবুজ জ্বালানিতে বিনিয়োগ কমিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র:  গার্ডিয়ান

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


যুদ্ধ ও জলবায়ু সংকটের মধ্যেই তেল কোম্পানির ৯৩ বিলিয়ন ডলার মুনাফা

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইরান সংঘাত ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার সুযোগে বিশ্বের আটটি বড় তেল কোম্পানি মাত্র তিন মাসে প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬৯ বিলিয়ন পাউন্ড) মুনাফা করেছে। একই সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে।

গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল মুনাফা অর্জন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি Saudi Aramco, BP, Shell plc, Chevron ও ExxonMobilসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের একই সময় এসব কোম্পানির সম্মিলিত মুনাফা ছিল প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার। এবার তা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতি মিনিটে এসব কোম্পানি গড়ে ৭ লাখ ডলারের বেশি মুনাফা করেছে।

যুদ্ধের বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারের বেশি উঠে যায়। সরবরাহ সংকট ও বাজারের অস্থিরতা তেল কোম্পানিগুলোর আয় বাড়িয়ে দেয়।

সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আরামকো। প্রতিষ্ঠানটি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি নিট আয় দেখিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি।

জলবায়ু সংকটের মধ্যে মুনাফা নিয়ে সমালোচনা

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে লাভবান হলেও এসব কোম্পানি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির দায় যথেষ্টভাবে নিচ্ছে না।

গ্লোবাল উইটনেসের জীবাশ্ম জ্বালানি বিষয়ক কর্মকর্তা প্যাট্রিক গ্যালি বলেন, “বিশ্বজুড়ে দাবানল, খরা ও জ্বালানি ব্যয়ের চাপের মধ্যে বড় তেল কোম্পানিগুলোর বিপুল মুনাফা প্রশ্ন তৈরি করছে।”

তিনি বলেন, তেল কোম্পানিগুলোকে জলবায়ু ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থ দিতে হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

বিপর্যস্ত বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ ও দাবানল

এদিকে চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ছাড়া এমন পরিস্থিতি প্রায় অসম্ভব ছিল।

তীব্র গরমে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে হাজারো মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল ও গ্রিসে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা গেছে।

জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান সাইমন স্টিয়েল বলেন, “সমাধান পরিষ্কার—কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যবহার দ্রুত কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যেতে হবে।”

তেল কোম্পানির বক্তব্য

তেল কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

বিপি জানিয়েছে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তারা তেল উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি গত কয়েক বছরে সবুজ জ্বালানিতে বিনিয়োগ কমিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র:  গার্ডিয়ান


BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।