শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরীর ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ: মুন্সীগঞ্জের কৃতিসন্তানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরীর ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ: মুন্সীগঞ্জের কৃতিসন্তানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ
আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরীর ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ: মুন্সীগঞ্জের কৃতিসন্তানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ
0:00 / 0:00
1x

মুন্সীগঞ্জের কৃতিসন্তান, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, সাহিত্যসেবী ও শিক্ষানুরাগী আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরীর ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, ৪ জুলাই। ১৯৮৭ সালের এই দিনে ঢাকার পিজি হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। তিনি ছিলেন চিরকুমার।

তাঁর মৃত্যুতে তৎকালীন জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

জন্ম ও শিক্ষা জীবন

আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরী জন্মগ্রহণ করেন মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার কোর্টগাঁও গ্রামে। তাঁর পিতা কাজী ইব্রাহীম হোসেন ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী, দানশীল ও প্রভাবশালী তালুকদার এবং মাতা এলেমজান বিবি ছিলেন গৃহিণী।

তিনি ১৯১৫ সালে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা কলেজে লেখাপড়া সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে কলকাতায় গিয়ে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।

সাহিত্য ও সাংবাদিকতা

কলকাতায় তিনি মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী সম্পাদিত ‘সুলতান’ পত্রিকায় সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। তাঁর লেখা ‘প্রবাসী’, ‘সওগাত’, ‘মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা’, ‘সাধনা’, ‘মোহাম্মদী’ ও ‘ভারতবর্ষ’-সহ বিভিন্ন খ্যাতনামা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।

তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন। তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত সাহিত্য সম্মেলনে আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও ড. রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

শিক্ষা বিস্তারে অবদান

আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরী ছিলেন শিক্ষা বিস্তারের একজন অগ্রদূত। তিনি নিজের অর্থায়নে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন এবং বহু দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে বিনা খরচে শিক্ষার সুযোগ করে দেন।

তাঁর প্রতিষ্ঠিত বা অবদান রাখা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কাজী কমরুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় (বর্তমান কে. কে. সরকারি বিদ্যানিকেতন), কোর্টগাঁও উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, চর ডুমুরিয়া এম. স্কুল, ভবেরচর হাই স্কুল, চিতলিয়া এম.ই. স্কুল, সৈয়দপুর মাদ্রাসা এবং মুন্সিগঞ্জ মহিলা কলেজ।

রাজনৈতিক জীবন

শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বে কৃষক প্রজা পার্টির মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৩৭ ও ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলার আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি পরবর্তীতে মুসলিম লীগে যোগ দিয়ে ঢাকা জেলা শাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রজাস্বত্ব আইন, শিক্ষা আইন, জমিদারি প্রথা বিলুপ্তিসহ বহু জনকল্যাণমূলক আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন।

১৯৬৩ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন।

সম্মাননা ও সামাজিক অবদান

ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘খান বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করতে চাইলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। সমাজসেবায় অবদানের জন্য বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন ১৯৮৩ সালে তাঁকে স্বর্ণপদকে ভূষিত করে।

উপসংহার

রাজনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য ও সমাজসেবায় বহুমাত্রিক অবদানের মাধ্যমে আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরী আজও বিক্রমপুর ও বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয়। তাঁর ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করছে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরীর ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ: মুন্সীগঞ্জের কৃতিসন্তানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মুন্সীগঞ্জের কৃতিসন্তান, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, সাহিত্যসেবী ও শিক্ষানুরাগী আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরীর ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, ৪ জুলাই। ১৯৮৭ সালের এই দিনে ঢাকার পিজি হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। তিনি ছিলেন চিরকুমার।

তাঁর মৃত্যুতে তৎকালীন জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

জন্ম ও শিক্ষা জীবন

আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরী জন্মগ্রহণ করেন মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার কোর্টগাঁও গ্রামে। তাঁর পিতা কাজী ইব্রাহীম হোসেন ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী, দানশীল ও প্রভাবশালী তালুকদার এবং মাতা এলেমজান বিবি ছিলেন গৃহিণী।

তিনি ১৯১৫ সালে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা কলেজে লেখাপড়া সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে কলকাতায় গিয়ে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।

সাহিত্য ও সাংবাদিকতা

কলকাতায় তিনি মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী সম্পাদিত ‘সুলতান’ পত্রিকায় সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। তাঁর লেখা ‘প্রবাসী’, ‘সওগাত’, ‘মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা’, ‘সাধনা’, ‘মোহাম্মদী’ ও ‘ভারতবর্ষ’-সহ বিভিন্ন খ্যাতনামা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।

তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন। তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত সাহিত্য সম্মেলনে আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও ড. রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

শিক্ষা বিস্তারে অবদান

আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরী ছিলেন শিক্ষা বিস্তারের একজন অগ্রদূত। তিনি নিজের অর্থায়নে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন এবং বহু দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে বিনা খরচে শিক্ষার সুযোগ করে দেন।

তাঁর প্রতিষ্ঠিত বা অবদান রাখা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কাজী কমরুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় (বর্তমান কে. কে. সরকারি বিদ্যানিকেতন), কোর্টগাঁও উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, চর ডুমুরিয়া এম. স্কুল, ভবেরচর হাই স্কুল, চিতলিয়া এম.ই. স্কুল, সৈয়দপুর মাদ্রাসা এবং মুন্সিগঞ্জ মহিলা কলেজ।

রাজনৈতিক জীবন

শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বে কৃষক প্রজা পার্টির মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৩৭ ও ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলার আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি পরবর্তীতে মুসলিম লীগে যোগ দিয়ে ঢাকা জেলা শাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রজাস্বত্ব আইন, শিক্ষা আইন, জমিদারি প্রথা বিলুপ্তিসহ বহু জনকল্যাণমূলক আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন।

১৯৬৩ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন।

সম্মাননা ও সামাজিক অবদান

ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘খান বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করতে চাইলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। সমাজসেবায় অবদানের জন্য বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন ১৯৮৩ সালে তাঁকে স্বর্ণপদকে ভূষিত করে।

উপসংহার

রাজনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য ও সমাজসেবায় বহুমাত্রিক অবদানের মাধ্যমে আব্দুল হাকিম বিক্রমপুরী আজও বিক্রমপুর ও বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয়। তাঁর ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করছে।

BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।