শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

ভোটারদের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে টাঙ্গাইলে এমপির ‘জনতার সংযোগ’, ফোন বুথে পৌঁছাবে অভিযোগ

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
ভোটারদের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে টাঙ্গাইলে এমপির ‘জনতার সংযোগ’, ফোন বুথে পৌঁছাবে অভিযোগ
ভোটারদের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে টাঙ্গাইলে এমপির ‘জনতার সংযোগ’, ফোন বুথে পৌঁছাবে অভিযোগ
0:00 / 0:00
1x

নির্বাচনের পর জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ কমে যাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেই দূরত্ব কমাতে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু চালু করেছেন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘জনতার সংযোগ’।

এই উদ্যোগের আওতায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার তিনটি ওয়ার্ডে স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ ফোন বুথ। এসব বুথে থাকা ফোন অথবা নির্ধারিত নম্বরে কল করে এলাকার বাসিন্দারা সরাসরি তাদের সমস্যা, অভিযোগ ও পরামর্শ এমপির কাছে পৌঁছে দিতে পারছেন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ফোন বুথের মাধ্যমে আসা অভিযোগ ও তথ্য প্রথমে কন্ট্রোল রুমে সংরক্ষণ করা হয়। পরে বিষয়ভিত্তিকভাবে সেগুলো শ্রেণিবিন্যাস করে সংসদ সদস্যের কাছে পাঠানো হয়। জরুরি কোনো বিষয় হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জানানো হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

উদ্যোগটির সমন্বয়ক ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা মির্জা ফয়সাল জানান, ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে প্রথম ফোন বুথ উদ্বোধনের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হয়। তার দাবি, চালুর পর থেকেই সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছেন।

তিনি জানান, সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সদর উপজেলার বাসিন্দারা এসব বুথ অথবা নির্ধারিত ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে তাদের সমস্যা জানাতে পারবেন।

ফয়সালের ভাষ্য অনুযায়ী, ফোন বুথে থাকা লাল বোতাম চাপলে অথবা নির্ধারিত নম্বরে কল করলে এমপির নিযুক্ত প্রতিনিধিরা ফোন রিসিভ করেন। তারা অভিযোগ লিখে রাখেন এবং তা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে এমপির কাছে পাঠানো হয়।

তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বাকি ১৫টি ওয়ার্ডেও একই ধরনের ফোন বুথ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অভিযোগ জানিয়ে সহায়তার দাবি

ঘারিন্দা ইউনিয়নের পয়লা গ্রামের বাসিন্দা ও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত সালমা বেগম জানান, ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ফোন বুথের বিষয়ে জানতে পারেন তিনি। সেখান থেকে ফোন করে সমাজসেবা অফিসে চিকিৎসা সহায়তার আবেদন দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার বিষয়টি এমপিকে জানানোর অনুরোধ করেন।

তার দাবি, দুই দিনের মধ্যে এমপির পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং একটি আবেদনপত্র দিতে বলা হয়। পরে টাঙ্গাইলে দেখা করার পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়।

তারটিয়া গ্রামের খন্দকার আখতারুজ্জামান বলেন, ঝিনাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তাদের এলাকায় নদীভাঙনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফোন বুথের মাধ্যমে বিষয়টি জানানোর পর এমপির নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী ও স্থানীয় নেতারা এলাকা পরিদর্শন করেন।

বেড়াবুচনা এলাকার সজীব মিয়া জানান, জমি-সংক্রান্ত বিরোধে হামলার অভিযোগ তিনি ফোন বুথের মাধ্যমে জানান। পরে কন্ট্রোল রুম থেকে তাকে জানানো হয়, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে।

সিলিমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. শামীম বলেন, গ্রামের একটি ভাঙাচোরা সড়কের বিষয়টি তিনি কন্ট্রোল রুমে জানিয়েছেন। তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে বিষয়টি এমপির নজরে আনা হবে।

এছাড়া সুরজ এলাকার এক বাসিন্দা জানান, এলাকায় মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ ফোনের মাধ্যমে জানালে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।

যেভাবে কাজ করছে কন্ট্রোল রুম

কন্ট্রোল রুমের একজন অপারেটর জানান, সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এমপির পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগত, সামাজিক ও স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ফোন করেন।

তিনি বলেন, প্রতিটি কলের তথ্য একটি সফটওয়্যারে সংরক্ষণ ও শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। এরপর বিষয়গুলো এমপির কাছে পাঠানো হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি ব্যবস্থা নেন। জরুরি ক্ষেত্রে তিনি নিজেও অভিযোগকারীর সঙ্গে কথা বলেন।

কন্ট্রোল রুমের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, কেউ পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগ করতে চাইলে তার তথ্য গোপন রাখা হয়।

যা বললেন এমপি

সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, নির্বাচনী এলাকার মানুষ শুধু ফোন বুথ থেকেই নয়, নিজেদের মোবাইল ফোন থেকেও নির্ধারিত নম্বরে কল করে অভিযোগ বা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।

তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সরকারি দায়িত্ব পালন, মন্ত্রণালয়ের কাজ এবং সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণের কারণে সব সময় এলাকায় থাকা সম্ভব হয় না। তাই জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর অপরাধমুক্ত একটি মডেল টাঙ্গাইল গড়তে জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ।

তার ভাষায়, “এই উদ্যোগকে জনগণের কল্যাণে আরও কার্যকর করার জন্য আমরা কাজ করছি।”

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


ভোটারদের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে টাঙ্গাইলে এমপির ‘জনতার সংযোগ’, ফোন বুথে পৌঁছাবে অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নির্বাচনের পর জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ কমে যাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেই দূরত্ব কমাতে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু চালু করেছেন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘জনতার সংযোগ’।

এই উদ্যোগের আওতায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার তিনটি ওয়ার্ডে স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ ফোন বুথ। এসব বুথে থাকা ফোন অথবা নির্ধারিত নম্বরে কল করে এলাকার বাসিন্দারা সরাসরি তাদের সমস্যা, অভিযোগ ও পরামর্শ এমপির কাছে পৌঁছে দিতে পারছেন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ফোন বুথের মাধ্যমে আসা অভিযোগ ও তথ্য প্রথমে কন্ট্রোল রুমে সংরক্ষণ করা হয়। পরে বিষয়ভিত্তিকভাবে সেগুলো শ্রেণিবিন্যাস করে সংসদ সদস্যের কাছে পাঠানো হয়। জরুরি কোনো বিষয় হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জানানো হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

উদ্যোগটির সমন্বয়ক ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা মির্জা ফয়সাল জানান, ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে প্রথম ফোন বুথ উদ্বোধনের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হয়। তার দাবি, চালুর পর থেকেই সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছেন।

তিনি জানান, সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সদর উপজেলার বাসিন্দারা এসব বুথ অথবা নির্ধারিত ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে তাদের সমস্যা জানাতে পারবেন।

ফয়সালের ভাষ্য অনুযায়ী, ফোন বুথে থাকা লাল বোতাম চাপলে অথবা নির্ধারিত নম্বরে কল করলে এমপির নিযুক্ত প্রতিনিধিরা ফোন রিসিভ করেন। তারা অভিযোগ লিখে রাখেন এবং তা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে এমপির কাছে পাঠানো হয়।

তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বাকি ১৫টি ওয়ার্ডেও একই ধরনের ফোন বুথ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অভিযোগ জানিয়ে সহায়তার দাবি

ঘারিন্দা ইউনিয়নের পয়লা গ্রামের বাসিন্দা ও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত সালমা বেগম জানান, ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ফোন বুথের বিষয়ে জানতে পারেন তিনি। সেখান থেকে ফোন করে সমাজসেবা অফিসে চিকিৎসা সহায়তার আবেদন দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার বিষয়টি এমপিকে জানানোর অনুরোধ করেন।

তার দাবি, দুই দিনের মধ্যে এমপির পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং একটি আবেদনপত্র দিতে বলা হয়। পরে টাঙ্গাইলে দেখা করার পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়।

তারটিয়া গ্রামের খন্দকার আখতারুজ্জামান বলেন, ঝিনাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তাদের এলাকায় নদীভাঙনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফোন বুথের মাধ্যমে বিষয়টি জানানোর পর এমপির নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী ও স্থানীয় নেতারা এলাকা পরিদর্শন করেন।

বেড়াবুচনা এলাকার সজীব মিয়া জানান, জমি-সংক্রান্ত বিরোধে হামলার অভিযোগ তিনি ফোন বুথের মাধ্যমে জানান। পরে কন্ট্রোল রুম থেকে তাকে জানানো হয়, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে।

সিলিমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. শামীম বলেন, গ্রামের একটি ভাঙাচোরা সড়কের বিষয়টি তিনি কন্ট্রোল রুমে জানিয়েছেন। তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে বিষয়টি এমপির নজরে আনা হবে।

এছাড়া সুরজ এলাকার এক বাসিন্দা জানান, এলাকায় মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ ফোনের মাধ্যমে জানালে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।

যেভাবে কাজ করছে কন্ট্রোল রুম

কন্ট্রোল রুমের একজন অপারেটর জানান, সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এমপির পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগত, সামাজিক ও স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ফোন করেন।

তিনি বলেন, প্রতিটি কলের তথ্য একটি সফটওয়্যারে সংরক্ষণ ও শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। এরপর বিষয়গুলো এমপির কাছে পাঠানো হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি ব্যবস্থা নেন। জরুরি ক্ষেত্রে তিনি নিজেও অভিযোগকারীর সঙ্গে কথা বলেন।

কন্ট্রোল রুমের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, কেউ পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগ করতে চাইলে তার তথ্য গোপন রাখা হয়।

যা বললেন এমপি

সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, নির্বাচনী এলাকার মানুষ শুধু ফোন বুথ থেকেই নয়, নিজেদের মোবাইল ফোন থেকেও নির্ধারিত নম্বরে কল করে অভিযোগ বা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।

তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সরকারি দায়িত্ব পালন, মন্ত্রণালয়ের কাজ এবং সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণের কারণে সব সময় এলাকায় থাকা সম্ভব হয় না। তাই জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর অপরাধমুক্ত একটি মডেল টাঙ্গাইল গড়তে জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ।

তার ভাষায়, “এই উদ্যোগকে জনগণের কল্যাণে আরও কার্যকর করার জন্য আমরা কাজ করছি।”

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার

BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।