শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবিরকে নিয়ে অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডার অভিযোগ

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবিরকে নিয়ে অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডার অভিযোগ
বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবিরকে নিয়ে অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডার অভিযোগ
0:00 / 0:00
1x
বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নিয়মবহির্ভূত সুবিধা না দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাকে চাপ প্রয়োগ ও ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জানা গেছে, ২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান হুমায়ুন কবির। পরবর্তীতে সাদিক আব্দুল্লাহ মেয়র থাকাকালে ২০২০ সালে এক নোটিশের মাধ্যমে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। প্রায় চার বছর বহিষ্কৃত থাকার পর ২০২৪ সালে নতুন প্রেক্ষাপটে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং তিনি পুনরায় দায়িত্বে ফেরেন। পরে পর্যায়ক্রমে তাকে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। জানা গেছে, প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী শিক্ষা ক্যাডারের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক। তিনি বরিশালের অক্সফোর্ড মিশন এলাকায় সড়ক ভবনের এক সহকারী প্রকৌশলীর সঙ্গে যৌথভাবে হাউস বিল্ডিং ঋণের মাধ্যমে ৮০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেন। এ ঋণ ২০৩৮ সাল পর্যন্ত পরিশোধ করার কথা রয়েছে। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, করপোরেশনের মোট ৩৪ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির প্রায় চার বছর বহিষ্কৃত থাকার পরও তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে আবেদন করা হয়। তার বিরুদ্ধে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদের অনেকের বিরুদ্ধেও দুদকের তদন্ত চলমান রয়েছে বলে সূত্রটি দাবি করেছে। অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়েও তাকে বিতর্কে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২১ মে অনুমোদিত বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের কমিটিতে তার কোনো পদ না থাকা সত্ত্বেও তাকে ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। জানা যায়, সাবেক মেয়রের সময়ে তাকে সহ-সভাপতি করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও কমিটির কার্যক্রমে অসঙ্গতি থাকায় তিনি নিজেই এতে যুক্ত হতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, প্রশাসক রায়হান কাওসারের সময় অ্যানেক্স ভবনসহ আটটি খাতে মন্ত্রণালয় থেকে ১০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে পরামর্শকের সুপারিশ অনুযায়ী অ্যানেক্স ভবনটি রেট্রোফিটিং করতে সাড়ে ছয় কোটি টাকা প্রয়োজন হওয়ায় ভবনটিতে কাজ না করে বরাদ্দের অর্থ অন্যান্য খাতে ব্যয় করা হয়, যা চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রকৃত ব্যয় হিসেবে দেখানো হবে। অ্যানেক্স ভবনে অর্থ ব্যয় না করা সত্ত্বেও একটি কুচক্রী মহল এ বিষয়টি নিয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও জানা গেছে, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে একাধিক প্রভাবশালী মহল তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু তিনি অনিয়মে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি তার বিরুদ্ধে ‘কাল হয়ে দাঁড়ায়’। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি চক্র তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নামে। সূত্র বলছে, প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতির পর থেকেই সিটি করপোরেশনের একটি অসাধু চক্র তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে তিনি কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তাকে ‘আওয়ামী দোসর’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যম ও স্থানীয় পত্রিকায় বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, মো. হুমায়ুন কবির কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে আপস করেন না এবং অবৈধভাবে কাজ পাইয়ে দিতে কাউকে সহযোগিতা করেন না। মূলত এ কারণেই একটি অসাধু চক্র তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। সচেতন মহলের মতে, সিটি করপোরেশনে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবিরকে নিয়ে অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image
বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নিয়মবহির্ভূত সুবিধা না দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাকে চাপ প্রয়োগ ও ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জানা গেছে, ২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান হুমায়ুন কবির। পরবর্তীতে সাদিক আব্দুল্লাহ মেয়র থাকাকালে ২০২০ সালে এক নোটিশের মাধ্যমে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। প্রায় চার বছর বহিষ্কৃত থাকার পর ২০২৪ সালে নতুন প্রেক্ষাপটে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং তিনি পুনরায় দায়িত্বে ফেরেন। পরে পর্যায়ক্রমে তাকে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। জানা গেছে, প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী শিক্ষা ক্যাডারের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক। তিনি বরিশালের অক্সফোর্ড মিশন এলাকায় সড়ক ভবনের এক সহকারী প্রকৌশলীর সঙ্গে যৌথভাবে হাউস বিল্ডিং ঋণের মাধ্যমে ৮০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেন। এ ঋণ ২০৩৮ সাল পর্যন্ত পরিশোধ করার কথা রয়েছে। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, করপোরেশনের মোট ৩৪ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির প্রায় চার বছর বহিষ্কৃত থাকার পরও তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে আবেদন করা হয়। তার বিরুদ্ধে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদের অনেকের বিরুদ্ধেও দুদকের তদন্ত চলমান রয়েছে বলে সূত্রটি দাবি করেছে। অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়েও তাকে বিতর্কে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২১ মে অনুমোদিত বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের কমিটিতে তার কোনো পদ না থাকা সত্ত্বেও তাকে ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। জানা যায়, সাবেক মেয়রের সময়ে তাকে সহ-সভাপতি করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও কমিটির কার্যক্রমে অসঙ্গতি থাকায় তিনি নিজেই এতে যুক্ত হতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, প্রশাসক রায়হান কাওসারের সময় অ্যানেক্স ভবনসহ আটটি খাতে মন্ত্রণালয় থেকে ১০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে পরামর্শকের সুপারিশ অনুযায়ী অ্যানেক্স ভবনটি রেট্রোফিটিং করতে সাড়ে ছয় কোটি টাকা প্রয়োজন হওয়ায় ভবনটিতে কাজ না করে বরাদ্দের অর্থ অন্যান্য খাতে ব্যয় করা হয়, যা চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রকৃত ব্যয় হিসেবে দেখানো হবে। অ্যানেক্স ভবনে অর্থ ব্যয় না করা সত্ত্বেও একটি কুচক্রী মহল এ বিষয়টি নিয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও জানা গেছে, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে একাধিক প্রভাবশালী মহল তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু তিনি অনিয়মে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি তার বিরুদ্ধে ‘কাল হয়ে দাঁড়ায়’। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি চক্র তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নামে। সূত্র বলছে, প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতির পর থেকেই সিটি করপোরেশনের একটি অসাধু চক্র তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে তিনি কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তাকে ‘আওয়ামী দোসর’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যম ও স্থানীয় পত্রিকায় বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, মো. হুমায়ুন কবির কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে আপস করেন না এবং অবৈধভাবে কাজ পাইয়ে দিতে কাউকে সহযোগিতা করেন না। মূলত এ কারণেই একটি অসাধু চক্র তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। সচেতন মহলের মতে, সিটি করপোরেশনে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।