শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

ঋণ শোধের স্বপ্ন অপূর্ণ, সৌদি থেকে দুই ভাই ফিরলেন দুই কফিনে

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
ঋণ শোধের স্বপ্ন অপূর্ণ, সৌদি থেকে দুই ভাই ফিরলেন দুই কফিনে
ঋণ শোধের স্বপ্ন অপূর্ণ, সৌদি থেকে দুই ভাই ফিরলেন দুই কফিনে
0:00 / 0:00
1x

পরিবারের দারিদ্র্য দূর করে ঋণের বোঝা কমানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরের দুই সহোদর ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজন (২১)। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। সৌদি আরবের দাম্মামে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁদের ফিরতে হলো দুটি কফিনে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের নিজ বাড়িসংলগ্ন কামারহাট মসজিদ মাঠে দুই ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় তাঁদের। এ সময় স্বজন, এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

নিহত দুই ভাই চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের খলিফার বাড়ির বাসিন্দা আবদুল মালেকের ছেলে। বড় ভাই সজীব দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে খেজুরের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে ছোট ভাই সুজনকেও নিজের কাছে নিয়ে যান তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই রাতে খেজুরবোঝাই একটি পিকআপে করে বাগান থেকে ফেরার পথে তাঁদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক-লরির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়।

দুই সন্তান হারিয়ে শোকাহত বাবা আবদুল মালেক বলেন, “ঋণ করে দুই ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। আশা ছিল তারা পরিশ্রম করে সংসারের অভাব দূর করবে, ঋণ শোধ করবে। কিন্তু সেই ঋণ আর শোধ হলো না। আমার দুই ছেলে আর নেই।”

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার রাতে দুই ভাইয়ের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। তাঁদের শেষবারের মতো দেখতে শত শত মানুষ বাড়িতে ভিড় করেন।

স্থানীয়রা জানান, সজীব ও সুজন ছিলেন পরিশ্রমী ও সবার প্রিয়। তাঁদের অকালমৃত্যুতে পুরো গনিপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত সজীবের স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। পরিবারের প্রধান দুই উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, “একসঙ্গে দুই ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


ঋণ শোধের স্বপ্ন অপূর্ণ, সৌদি থেকে দুই ভাই ফিরলেন দুই কফিনে

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পরিবারের দারিদ্র্য দূর করে ঋণের বোঝা কমানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরের দুই সহোদর ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজন (২১)। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। সৌদি আরবের দাম্মামে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁদের ফিরতে হলো দুটি কফিনে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের নিজ বাড়িসংলগ্ন কামারহাট মসজিদ মাঠে দুই ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় তাঁদের। এ সময় স্বজন, এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

নিহত দুই ভাই চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের খলিফার বাড়ির বাসিন্দা আবদুল মালেকের ছেলে। বড় ভাই সজীব দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে খেজুরের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে ছোট ভাই সুজনকেও নিজের কাছে নিয়ে যান তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই রাতে খেজুরবোঝাই একটি পিকআপে করে বাগান থেকে ফেরার পথে তাঁদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক-লরির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়।

দুই সন্তান হারিয়ে শোকাহত বাবা আবদুল মালেক বলেন, “ঋণ করে দুই ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। আশা ছিল তারা পরিশ্রম করে সংসারের অভাব দূর করবে, ঋণ শোধ করবে। কিন্তু সেই ঋণ আর শোধ হলো না। আমার দুই ছেলে আর নেই।”

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার রাতে দুই ভাইয়ের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। তাঁদের শেষবারের মতো দেখতে শত শত মানুষ বাড়িতে ভিড় করেন।

স্থানীয়রা জানান, সজীব ও সুজন ছিলেন পরিশ্রমী ও সবার প্রিয়। তাঁদের অকালমৃত্যুতে পুরো গনিপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত সজীবের স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। পরিবারের প্রধান দুই উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, “একসঙ্গে দুই ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”


BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।