শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

সৌদিতে ‘গ্রিন কার্ড’: আজীবন বসবাস, কাজ ও ব্যবসার সুযোগ

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
সৌদিতে ‘গ্রিন কার্ড’: আজীবন বসবাস, কাজ ও ব্যবসার সুযোগ
সৌদিতে ‘গ্রিন কার্ড’: আজীবন বসবাস, কাজ ও ব্যবসার সুযোগ
0:00 / 0:00
1x

বিদেশি বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা ও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য সৌদি আরব চালু করেছে বিশেষ প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম। স্থানীয় স্পন্সর বা কফিল ছাড়াই দেশটিতে বসবাস, কাজ ও ব্যবসা করার সুযোগ থাকায় এটি অনেকের কাছে ‘সৌদি গ্রিন কার্ড’ নামে পরিচিত।

সৌদি সরকারের ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চালু হওয়া এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের দক্ষ জনশক্তি ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা এবং দেশটির অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।

প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি পাওয়া ব্যক্তিরা পরিবার নিয়ে সৌদিতে বসবাস করতে পারেন। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ, নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনা এবং নির্দিষ্ট শর্তে সম্পত্তির মালিক হওয়ার সুযোগও রয়েছে।

যেসব সুবিধা মিলবে

সৌদি প্রিমিয়াম রেসিডেন্সির আওতায় সাধারণত যেসব সুবিধা পাওয়া যায়—

  • পরিবারসহ সৌদিতে বসবাসের সুযোগ।
  • কফিল ছাড়াই কাজ ও ব্যবসা করার স্বাধীনতা।
  • নিজস্ব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ।
  • নির্দিষ্ট শর্তে আবাসিক সম্পত্তির মালিকানা।
  • সৌদি থেকে আসা-যাওয়ার সুবিধা।
  • স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের রেসিডেন্সি সুবিধা।

রয়েছে বিভিন্ন ক্যাটাগরি

সৌদি প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণিতে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ প্রতিভা, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, রিয়েল এস্টেট মালিক এবং সাধারণ দীর্ঘমেয়াদি রেসিডেন্সি।

বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ

বিনিয়োগকারী রেসিডেন্সির জন্য আবেদনকারীর সৌদি আরবে বিনিয়োগ লাইসেন্স থাকতে হবে। নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী কমপক্ষে ৭ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল বিনিয়োগ এবং দুই বছরের মধ্যে ১০টি কর্মসংস্থান তৈরির শর্ত রয়েছে।

উদ্যোক্তাদের জন্য সুবিধা

স্টার্টআপ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের জন্য আলাদা রেসিডেন্সি সুবিধা রয়েছে। অনুমোদিত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগ এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এই সুবিধা পাওয়া যায়।

দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য

গবেষক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ প্রতিভা রেসিডেন্সি। নির্দিষ্ট যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বেতন কাঠামোর ভিত্তিতে তারা আবেদন করতে পারেন।

স্থায়ী রেসিডেন্সির খরচ

সৌদি প্রিমিয়াম রেসিডেন্সির আওতায় সীমিত ও স্থায়ী—দুই ধরনের সুযোগ রয়েছে।

স্থায়ী রেসিডেন্সির জন্য এককালীন ৮ লাখ সৌদি রিয়াল ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া এক বছর মেয়াদি নবায়নযোগ্য রেসিডেন্সির জন্য প্রতি বছর ১ লাখ সৌদি রিয়াল ফি দিতে হয়।

আবেদন প্রক্রিয়া

আবেদনকারীদের সৌদি প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি সেন্টারের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আবেদন করতে হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে বৈধ পাসপোর্ট, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নথি এবং পেশাগত বা বিনিয়োগের তথ্য।

আবেদনের জন্য ব্যবহার করা হয় সৌদি সরকারের নির্ধারিত ওয়েবসাইট pr.gov.sa।

নাগরিকত্ব নয়

প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি সৌদিতে দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দিলেও এটি সরাসরি সৌদি নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ নয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক দক্ষতা, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনকে দেশে নিয়ে আসতে চায়।

সূত্র: সৌদি প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি সেন্টার

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


সৌদিতে ‘গ্রিন কার্ড’: আজীবন বসবাস, কাজ ও ব্যবসার সুযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিদেশি বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা ও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য সৌদি আরব চালু করেছে বিশেষ প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম। স্থানীয় স্পন্সর বা কফিল ছাড়াই দেশটিতে বসবাস, কাজ ও ব্যবসা করার সুযোগ থাকায় এটি অনেকের কাছে ‘সৌদি গ্রিন কার্ড’ নামে পরিচিত।

সৌদি সরকারের ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চালু হওয়া এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের দক্ষ জনশক্তি ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা এবং দেশটির অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।

প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি পাওয়া ব্যক্তিরা পরিবার নিয়ে সৌদিতে বসবাস করতে পারেন। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ, নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনা এবং নির্দিষ্ট শর্তে সম্পত্তির মালিক হওয়ার সুযোগও রয়েছে।

যেসব সুবিধা মিলবে

সৌদি প্রিমিয়াম রেসিডেন্সির আওতায় সাধারণত যেসব সুবিধা পাওয়া যায়—

  • পরিবারসহ সৌদিতে বসবাসের সুযোগ।
  • কফিল ছাড়াই কাজ ও ব্যবসা করার স্বাধীনতা।
  • নিজস্ব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ।
  • নির্দিষ্ট শর্তে আবাসিক সম্পত্তির মালিকানা।
  • সৌদি থেকে আসা-যাওয়ার সুবিধা।
  • স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের রেসিডেন্সি সুবিধা।

রয়েছে বিভিন্ন ক্যাটাগরি

সৌদি প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণিতে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ প্রতিভা, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, রিয়েল এস্টেট মালিক এবং সাধারণ দীর্ঘমেয়াদি রেসিডেন্সি।

বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ

বিনিয়োগকারী রেসিডেন্সির জন্য আবেদনকারীর সৌদি আরবে বিনিয়োগ লাইসেন্স থাকতে হবে। নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী কমপক্ষে ৭ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল বিনিয়োগ এবং দুই বছরের মধ্যে ১০টি কর্মসংস্থান তৈরির শর্ত রয়েছে।

উদ্যোক্তাদের জন্য সুবিধা

স্টার্টআপ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের জন্য আলাদা রেসিডেন্সি সুবিধা রয়েছে। অনুমোদিত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগ এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এই সুবিধা পাওয়া যায়।

দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য

গবেষক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ প্রতিভা রেসিডেন্সি। নির্দিষ্ট যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বেতন কাঠামোর ভিত্তিতে তারা আবেদন করতে পারেন।

স্থায়ী রেসিডেন্সির খরচ

সৌদি প্রিমিয়াম রেসিডেন্সির আওতায় সীমিত ও স্থায়ী—দুই ধরনের সুযোগ রয়েছে।

স্থায়ী রেসিডেন্সির জন্য এককালীন ৮ লাখ সৌদি রিয়াল ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া এক বছর মেয়াদি নবায়নযোগ্য রেসিডেন্সির জন্য প্রতি বছর ১ লাখ সৌদি রিয়াল ফি দিতে হয়।

আবেদন প্রক্রিয়া

আবেদনকারীদের সৌদি প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি সেন্টারের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আবেদন করতে হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে বৈধ পাসপোর্ট, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নথি এবং পেশাগত বা বিনিয়োগের তথ্য।

আবেদনের জন্য ব্যবহার করা হয় সৌদি সরকারের নির্ধারিত ওয়েবসাইট pr.gov.sa।

নাগরিকত্ব নয়

প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি সৌদিতে দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দিলেও এটি সরাসরি সৌদি নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ নয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক দক্ষতা, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনকে দেশে নিয়ে আসতে চায়।

সূত্র: সৌদি প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি সেন্টার

BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।