শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

এক কোটি টাকার ওষুধ, চার কোটি টাকার বিল—বান্দরবানের সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে তদন্ত

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
এক কোটি টাকার ওষুধ, চার কোটি টাকার বিল—বান্দরবানের সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে তদন্ত
এক কোটি টাকার ওষুধ, চার কোটি টাকার বিল—বান্দরবানের সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে তদন্ত
0:00 / 0:00
1x
বান্দরবান সদর হাসপাতালের জন্য প্রায় এক কোটি টাকার ওষুধ কিনে পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে চার কোটি টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। জুন ক্লোজিংয়ের আগে তড়িঘড়ি করে বিল উত্তোলনের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে বান্দরবান সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। তবে তদন্ত চলাকালে সিভিল সার্জন ডা. শাহীন হোসাইন চৌধুরী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তদন্ত কমিটিতে যারা আছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন— পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক ডা. লেনিন তালুকদার পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পিএস-২ আবুল মনসুর নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা হিসাব ও নিরীক্ষণ কর্মকর্তা এম. মুহিব্বুল হাসান ‘সিভিল সার্জন সহযোগিতা করেননি’ পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে টেন্ডার প্রক্রিয়া, ওষুধ ও অন্যান্য সরঞ্জাম যথাযথভাবে ক্রয় হয়েছে কি না—সব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, তদন্তে সহযোগিতার জন্য সিভিল সার্জনকে আগেই জানানো হলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও করেননি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে তিনি জানান। কী অভিযোগ? অভিযোগ অনুযায়ী, বান্দরবান সদর হাসপাতালের জন্য ওষুধ, কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়ে প্রায় চার কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রের গোপন মূল্যসংক্রান্ত তথ্য (রেট কোড) একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ করে টেন্ডারে অনিয়ম করা হয়েছে। জানা গেছে, এমএসএম নামে একটি প্রতিষ্ঠান পাঁচটি কার্যাদেশ এবং আলমগীর নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান একটি কার্যাদেশ পায়। গত ১৩ জুন কার্যাদেশ দেওয়া হলেও চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্নের সময়সীমা ছিল ৯০ দিন। বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব তথ্য অনুযায়ী— ওষুধ ক্রয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের বরাদ্দ: ১ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকা পার্বত্য জেলা পরিষদের বরাদ্দ: ৩১ লাখ টাকা যন্ত্রপাতি ক্রয়ে: ৭৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা কেমিক্যাল ক্রয়ে: ৮০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যান্ডেজ ক্রয়ে: ১৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা লিনেন ক্রয়ে: ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ফার্নিচার ক্রয়ে: ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় এক কোটি টাকার ওষুধ ক্রয় করা হলেও চার কোটি টাকার বিল পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। মূল্যায়ন কমিটির বক্তব্য টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন ডা. সানাই ত্রিপুরা। সদস্য হিসেবে ছিলেন ডা. দেবরাজ বৈদ্য, ডা. উথেন ক্য, আরএমও ডা. অতনু চৌধুরী, হিসাবরক্ষক সুভাষ দাশ এবং গণপূর্ত বিভাগের একজন প্রকৌশলী। কমিটির সদস্য ও আরএমও ডা. অতনু চৌধুরী দাবি করেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী মালামাল সরবরাহ করেছে এবং সেগুলো রোগীদের ব্যবহারের জন্য দেওয়া হচ্ছে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


এক কোটি টাকার ওষুধ, চার কোটি টাকার বিল—বান্দরবানের সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে তদন্ত

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image
বান্দরবান সদর হাসপাতালের জন্য প্রায় এক কোটি টাকার ওষুধ কিনে পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে চার কোটি টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। জুন ক্লোজিংয়ের আগে তড়িঘড়ি করে বিল উত্তোলনের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে বান্দরবান সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। তবে তদন্ত চলাকালে সিভিল সার্জন ডা. শাহীন হোসাইন চৌধুরী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তদন্ত কমিটিতে যারা আছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন— পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক ডা. লেনিন তালুকদার পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পিএস-২ আবুল মনসুর নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা হিসাব ও নিরীক্ষণ কর্মকর্তা এম. মুহিব্বুল হাসান ‘সিভিল সার্জন সহযোগিতা করেননি’ পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে টেন্ডার প্রক্রিয়া, ওষুধ ও অন্যান্য সরঞ্জাম যথাযথভাবে ক্রয় হয়েছে কি না—সব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, তদন্তে সহযোগিতার জন্য সিভিল সার্জনকে আগেই জানানো হলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও করেননি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে তিনি জানান। কী অভিযোগ? অভিযোগ অনুযায়ী, বান্দরবান সদর হাসপাতালের জন্য ওষুধ, কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়ে প্রায় চার কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রের গোপন মূল্যসংক্রান্ত তথ্য (রেট কোড) একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ করে টেন্ডারে অনিয়ম করা হয়েছে। জানা গেছে, এমএসএম নামে একটি প্রতিষ্ঠান পাঁচটি কার্যাদেশ এবং আলমগীর নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান একটি কার্যাদেশ পায়। গত ১৩ জুন কার্যাদেশ দেওয়া হলেও চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্নের সময়সীমা ছিল ৯০ দিন। বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব তথ্য অনুযায়ী— ওষুধ ক্রয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের বরাদ্দ: ১ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকা পার্বত্য জেলা পরিষদের বরাদ্দ: ৩১ লাখ টাকা যন্ত্রপাতি ক্রয়ে: ৭৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা কেমিক্যাল ক্রয়ে: ৮০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যান্ডেজ ক্রয়ে: ১৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা লিনেন ক্রয়ে: ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ফার্নিচার ক্রয়ে: ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় এক কোটি টাকার ওষুধ ক্রয় করা হলেও চার কোটি টাকার বিল পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। মূল্যায়ন কমিটির বক্তব্য টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন ডা. সানাই ত্রিপুরা। সদস্য হিসেবে ছিলেন ডা. দেবরাজ বৈদ্য, ডা. উথেন ক্য, আরএমও ডা. অতনু চৌধুরী, হিসাবরক্ষক সুভাষ দাশ এবং গণপূর্ত বিভাগের একজন প্রকৌশলী। কমিটির সদস্য ও আরএমও ডা. অতনু চৌধুরী দাবি করেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী মালামাল সরবরাহ করেছে এবং সেগুলো রোগীদের ব্যবহারের জন্য দেওয়া হচ্ছে।

BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।