শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

শাহজালালে সাড়ে ৫ বছরে ৩ হাজার ৭শ কোটি টাকার সোনা জব্দ

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
শাহজালালে সাড়ে ৫ বছরে ৩ হাজার ৭শ কোটি টাকার সোনা জব্দ
শাহজালালে সাড়ে ৫ বছরে ৩ হাজার ৭শ কোটি টাকার সোনা জব্দ
0:00 / 0:00
1x

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত সাড়ে পাঁচ বছরে বিপুল পরিমাণ সোনা জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাম্প্রতিক এক অভিযানে ৪৫ কোটি টাকার সোনা উদ্ধারসহ দীর্ঘমেয়াদি চোরাচালান চক্রের চিত্র উঠে এসেছে।

সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার। দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় কাস্টমস, শুল্ক গোয়েন্দা, এভসেক ও অন্যান্য সংস্থার যৌথ দল। তল্লাশিতে কার্গো হোল্ডে বিশেষভাবে লুকানো ১৬০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়, যার ওজন প্রায় ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম। এসব সোনার বাজারমূল্য আনুমানিক ৪৫ কোটি টাকা।

এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সালের বর্তমান সময় পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দরে শতাধিক অভিযানে মোট ১,৯০২ কেজি (প্রায় ৪৭.৫৫ মণ) সোনা জব্দ করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) নির্ধারিত ২২ ক্যারেটের দরে এর বাজারমূল্য প্রায় ৩,৭২৮ কোটি টাকা।

অর্থবছরভিত্তিক সোনা জব্দের পরিসংখ্যান

  • ২০২১–২২ অর্থবছর: ৬৯৮ কেজি
  • ২০২২–২৩ অর্থবছর: ৫৫৫ কেজি
  • ২০২৩–২৪ অর্থবছর: ৪১৭ কেজি
  • ২০২৪–২৫ অর্থবছর: ১৬৯ কেজি
  • ২০২৬ (এ পর্যন্ত): প্রায় ৬৩.৫ কেজি

বিমানবন্দর থানার তথ্যমতে, এই সময়ের মধ্যে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় ৫৪০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ মামলাতেই মূল হোতা বা বাহককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই), সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও কুয়েত থেকে আসা ফ্লাইটগুলো চোরাচালানের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও সোনা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

চোরাকারবারিরা বিমানবন্দরের ভেতরে কর্মরত কিছু কর্মীসহ যাত্রীবেশী বাহক ব্যবহার করে সোনা পাচার করছে বলে জানা গেছে। সোনা লুকানোর জন্য বিমানের সিট, কার্গো অংশ, টয়লেট, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, ব্যাগেজ এমনকি শরীরের বিভিন্ন অংশও ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মুখপাত্র বলেন, “ব্যক্তির অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না। তদন্তে যার বিরুদ্ধেই অপরাধ প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক জানান, নজরদারি আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে, যার ফলে একের পর এক চালান ধরা পড়ছে।

ঢাকা কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা মনে করেন, আন্তর্জাতিক সমন্বয় জোরদার না করলে এই চোরাচালান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


শাহজালালে সাড়ে ৫ বছরে ৩ হাজার ৭শ কোটি টাকার সোনা জব্দ

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত সাড়ে পাঁচ বছরে বিপুল পরিমাণ সোনা জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাম্প্রতিক এক অভিযানে ৪৫ কোটি টাকার সোনা উদ্ধারসহ দীর্ঘমেয়াদি চোরাচালান চক্রের চিত্র উঠে এসেছে।

সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার। দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় কাস্টমস, শুল্ক গোয়েন্দা, এভসেক ও অন্যান্য সংস্থার যৌথ দল। তল্লাশিতে কার্গো হোল্ডে বিশেষভাবে লুকানো ১৬০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়, যার ওজন প্রায় ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম। এসব সোনার বাজারমূল্য আনুমানিক ৪৫ কোটি টাকা।

এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সালের বর্তমান সময় পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দরে শতাধিক অভিযানে মোট ১,৯০২ কেজি (প্রায় ৪৭.৫৫ মণ) সোনা জব্দ করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) নির্ধারিত ২২ ক্যারেটের দরে এর বাজারমূল্য প্রায় ৩,৭২৮ কোটি টাকা।

অর্থবছরভিত্তিক সোনা জব্দের পরিসংখ্যান

  • ২০২১–২২ অর্থবছর: ৬৯৮ কেজি
  • ২০২২–২৩ অর্থবছর: ৫৫৫ কেজি
  • ২০২৩–২৪ অর্থবছর: ৪১৭ কেজি
  • ২০২৪–২৫ অর্থবছর: ১৬৯ কেজি
  • ২০২৬ (এ পর্যন্ত): প্রায় ৬৩.৫ কেজি

বিমানবন্দর থানার তথ্যমতে, এই সময়ের মধ্যে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় ৫৪০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ মামলাতেই মূল হোতা বা বাহককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই), সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও কুয়েত থেকে আসা ফ্লাইটগুলো চোরাচালানের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও সোনা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

চোরাকারবারিরা বিমানবন্দরের ভেতরে কর্মরত কিছু কর্মীসহ যাত্রীবেশী বাহক ব্যবহার করে সোনা পাচার করছে বলে জানা গেছে। সোনা লুকানোর জন্য বিমানের সিট, কার্গো অংশ, টয়লেট, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, ব্যাগেজ এমনকি শরীরের বিভিন্ন অংশও ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মুখপাত্র বলেন, “ব্যক্তির অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না। তদন্তে যার বিরুদ্ধেই অপরাধ প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক জানান, নজরদারি আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে, যার ফলে একের পর এক চালান ধরা পড়ছে।

ঢাকা কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা মনে করেন, আন্তর্জাতিক সমন্বয় জোরদার না করলে এই চোরাচালান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।


BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।