শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

আবু সাঈদের ছবি নয়, ভিডিও বলছে পুরো গল্প: একটি দেহ কীভাবে হয়ে উঠেছিল প্রতিরোধের প্রতীক

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
আবু সাঈদের ছবি নয়, ভিডিও বলছে পুরো গল্প: একটি দেহ কীভাবে হয়ে উঠেছিল প্রতিরোধের প্রতীক
আবু সাঈদের ছবি নয়, ভিডিও বলছে পুরো গল্প: একটি দেহ কীভাবে হয়ে উঠেছিল প্রতিরোধের প্রতীক
0:00 / 0:00
1x

আবু সাঈদের একটি ছবি জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে। কিন্তু সেই স্থির ছবির বাইরে থাকা ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়ে আরও দীর্ঘ এক মুহূর্ত—একজন মানুষের দাঁড়িয়ে থাকা, গুলির আঘাতে পেছনে সরে যাওয়া, পড়ে যাওয়া এবং অন্য শিক্ষার্থীদের তাকে উদ্ধারের চেষ্টা।

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ধারণ করা সেই দৃশ্যে দেখা যায়, আন্দোলনকারীদের সামনে অবস্থান করছিলেন আবু সাঈদ। তার হাতে ছিল একটি লাঠি, সামনে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে বিভিন্ন তদন্তে বলা হয়, তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। জাতিসংঘের একটি তদন্তে তার মৃত্যুকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

তবে একটি স্থির ছবি অনেক সময় একটি দীর্ঘ ঘটনার জটিলতাকে সরল প্রতীকে পরিণত করে। আবু সাঈদের ছবি শুধু সাহসের প্রতীক নয়; এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, নাগরিক প্রতিরোধ এবং রাজনৈতিক দায়িত্বের প্রশ্নও সামনে আনে।

মৃত্যুর আগের দিন আবু সাঈদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুজ্জোহার ১৯৬৯ সালের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন—ন্যায্য দাবির পক্ষে দাঁড়াতে হবে, শিক্ষার্থীদের পাশে ঢাল হয়ে থাকতে হবে।

তার সেই বক্তব্যকে অনেকে ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল মৃত্যুকামনা নয়; বরং অন্যায়ের মুখে একজন নাগরিকের নৈতিক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান।

আবু সাঈদের মৃত্যু শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের মামলা নয়, এটি বহু মানুষের কাছে একটি অভিন্ন অভিজ্ঞতার প্রতীক হয়ে ওঠে। ভিন্ন মত, শ্রেণি ও পরিচয়ের মানুষ তার মৃত্যুর মধ্যে নিজেদের নিরাপত্তাহীনতা ও রাষ্ট্রীয় শক্তির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা দেখতে পান।

ভিডিও ফুটেজ এই ঘটনার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি শুধু একটি ঘটনার প্রমাণ নয়; এটি তৈরি করে একটি অভিন্ন জনস্মৃতি। যারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না, তারাও সেই দৃশ্যের মাধ্যমে ঘটনার সাক্ষী হয়ে ওঠেন।

তবে কোনো শহীদের স্মৃতি যখন রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়, তখন একটি প্রশ্নও সামনে আসে—একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন কোথায় হারিয়ে যায়? আবু সাঈদ শুধু একটি আন্দোলনের নাম নন; তিনি ছিলেন একটি পরিবারের সন্তান, একজন শিক্ষার্থী, একটি পরিবারের ভবিষ্যতের আশা।

জনস্মৃতি তাকে বৃহত্তর প্রতীকে পরিণত করেছে, কিন্তু তার পরিবারের কাছে তিনি আজও সেই একই মানুষ—যাকে হারানোর শোক কোনো রাজনৈতিক ব্যাখ্যায় সম্পূর্ণ ধরা যায় না।

আবু সাঈদের স্মৃতি নিয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, তাকে কোনো একক রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না করা। তিনি শুধু কোনো দল, গোষ্ঠী বা মতাদর্শের সম্পত্তি নন। তার মৃত্যু যে প্রশ্নগুলো সামনে এনেছে—ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও নাগরিক মর্যাদা—সেগুলো বৃহত্তর সমাজের প্রশ্ন।

আবু সাঈদের স্মরণ শুধু তার দাঁড়িয়ে থাকা ছবিকে পুনরাবৃত্তি করা নয়; বরং সেই মুহূর্তের প্রশ্নগুলোকে জীবিত রাখা—ক্ষমতার সামনে একজন সাধারণ মানুষের অবস্থান কী হবে, অন্যায়ের সামনে সমাজ কীভাবে দাঁড়াবে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


আবু সাঈদের ছবি নয়, ভিডিও বলছে পুরো গল্প: একটি দেহ কীভাবে হয়ে উঠেছিল প্রতিরোধের প্রতীক

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

আবু সাঈদের একটি ছবি জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে। কিন্তু সেই স্থির ছবির বাইরে থাকা ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়ে আরও দীর্ঘ এক মুহূর্ত—একজন মানুষের দাঁড়িয়ে থাকা, গুলির আঘাতে পেছনে সরে যাওয়া, পড়ে যাওয়া এবং অন্য শিক্ষার্থীদের তাকে উদ্ধারের চেষ্টা।

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ধারণ করা সেই দৃশ্যে দেখা যায়, আন্দোলনকারীদের সামনে অবস্থান করছিলেন আবু সাঈদ। তার হাতে ছিল একটি লাঠি, সামনে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে বিভিন্ন তদন্তে বলা হয়, তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। জাতিসংঘের একটি তদন্তে তার মৃত্যুকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

তবে একটি স্থির ছবি অনেক সময় একটি দীর্ঘ ঘটনার জটিলতাকে সরল প্রতীকে পরিণত করে। আবু সাঈদের ছবি শুধু সাহসের প্রতীক নয়; এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, নাগরিক প্রতিরোধ এবং রাজনৈতিক দায়িত্বের প্রশ্নও সামনে আনে।

মৃত্যুর আগের দিন আবু সাঈদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুজ্জোহার ১৯৬৯ সালের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন—ন্যায্য দাবির পক্ষে দাঁড়াতে হবে, শিক্ষার্থীদের পাশে ঢাল হয়ে থাকতে হবে।

তার সেই বক্তব্যকে অনেকে ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল মৃত্যুকামনা নয়; বরং অন্যায়ের মুখে একজন নাগরিকের নৈতিক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান।

আবু সাঈদের মৃত্যু শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের মামলা নয়, এটি বহু মানুষের কাছে একটি অভিন্ন অভিজ্ঞতার প্রতীক হয়ে ওঠে। ভিন্ন মত, শ্রেণি ও পরিচয়ের মানুষ তার মৃত্যুর মধ্যে নিজেদের নিরাপত্তাহীনতা ও রাষ্ট্রীয় শক্তির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা দেখতে পান।

ভিডিও ফুটেজ এই ঘটনার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি শুধু একটি ঘটনার প্রমাণ নয়; এটি তৈরি করে একটি অভিন্ন জনস্মৃতি। যারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না, তারাও সেই দৃশ্যের মাধ্যমে ঘটনার সাক্ষী হয়ে ওঠেন।

তবে কোনো শহীদের স্মৃতি যখন রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়, তখন একটি প্রশ্নও সামনে আসে—একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন কোথায় হারিয়ে যায়? আবু সাঈদ শুধু একটি আন্দোলনের নাম নন; তিনি ছিলেন একটি পরিবারের সন্তান, একজন শিক্ষার্থী, একটি পরিবারের ভবিষ্যতের আশা।

জনস্মৃতি তাকে বৃহত্তর প্রতীকে পরিণত করেছে, কিন্তু তার পরিবারের কাছে তিনি আজও সেই একই মানুষ—যাকে হারানোর শোক কোনো রাজনৈতিক ব্যাখ্যায় সম্পূর্ণ ধরা যায় না।

আবু সাঈদের স্মৃতি নিয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, তাকে কোনো একক রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না করা। তিনি শুধু কোনো দল, গোষ্ঠী বা মতাদর্শের সম্পত্তি নন। তার মৃত্যু যে প্রশ্নগুলো সামনে এনেছে—ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও নাগরিক মর্যাদা—সেগুলো বৃহত্তর সমাজের প্রশ্ন।

আবু সাঈদের স্মরণ শুধু তার দাঁড়িয়ে থাকা ছবিকে পুনরাবৃত্তি করা নয়; বরং সেই মুহূর্তের প্রশ্নগুলোকে জীবিত রাখা—ক্ষমতার সামনে একজন সাধারণ মানুষের অবস্থান কী হবে, অন্যায়ের সামনে সমাজ কীভাবে দাঁড়াবে।


BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।