শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের দ্বিতীয় মুক্তি ধীরগতির সংস্কারের চেয়ে অনেক বেশি কিছু দাবি করে

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
বাংলাদেশের দ্বিতীয় মুক্তি ধীরগতির সংস্কারের চেয়ে অনেক বেশি কিছু দাবি করে
বাংলাদেশের দ্বিতীয় মুক্তি ধীরগতির সংস্কারের চেয়ে অনেক বেশি কিছু দাবি করে
0:00 / 0:00
1x

দুই বছর আগে সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করে। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনব্যবস্থার পতনের পর দেশ একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার অন্যতম প্রধান দাবি ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার।

গণঅভ্যুত্থানের পর একটি অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। পরে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতির নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। তবে আন্দোলনের মূল লক্ষ্য—প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করা—এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

লেখক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদুল আনাম খান তাঁর এক বিশ্লেষণে বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা যথাযথ নয়। কারণ দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপট, চরিত্র ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব ভিন্ন। তবে ৫ আগস্টকে ‘দ্বিতীয় মুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করার পেছনে মানুষের অনুভূতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের শাসনব্যবস্থায় সৃষ্ট ক্ষোভ, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, গণমাধ্যম ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ এবং জনগণের জমে থাকা অসন্তোষই আন্দোলনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

লেখকের মতে, জুলাই আন্দোলন ‘বিপ্লব’ না ‘গণঅভ্যুত্থান’—এ ধরনের বিতর্কের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এর ফলাফল। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন একটি শক্তিশালী সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি আদায় করেছে, যা জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

প্রবন্ধে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের অর্জন টেকসই করতে হলে শুধু সরকার পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর সংস্কার। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব কমানো এবং কার্যকর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

লেখক দাবি করেন, বিএনপি জুলাই আন্দোলনের রাজনৈতিক ফলাফলের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। তাই দলটির উচিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।

তিনি বলেন, সরকার সনদ পুরোপুরি পরিত্যাগ করেনি, তবে বাস্তবায়নের গতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বর্তমান সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। এর ফলে কাঠামোগত সংস্কারের কাজ প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, সংবিধান সংস্কারের জন্য বিএনপি জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। তবে বিরোধী পক্ষগুলো দাবি করছে, জুলাই সনদে প্রস্তাবিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সংস্কার হওয়া উচিত।

লেখকের মতে, জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই আন্দোলনের উত্তরাধিকার হিসেবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং জনগণের প্রতি একটি নৈতিক দায়িত্ব।

দ্য ডেল্টাগ্রাম থেকে অনূদিত ও সংক্ষেপিত
লেখক: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদুল আনাম খান

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


বাংলাদেশের দ্বিতীয় মুক্তি ধীরগতির সংস্কারের চেয়ে অনেক বেশি কিছু দাবি করে

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দুই বছর আগে সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করে। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনব্যবস্থার পতনের পর দেশ একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার অন্যতম প্রধান দাবি ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার।

গণঅভ্যুত্থানের পর একটি অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। পরে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতির নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। তবে আন্দোলনের মূল লক্ষ্য—প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করা—এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

লেখক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদুল আনাম খান তাঁর এক বিশ্লেষণে বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা যথাযথ নয়। কারণ দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপট, চরিত্র ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব ভিন্ন। তবে ৫ আগস্টকে ‘দ্বিতীয় মুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করার পেছনে মানুষের অনুভূতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের শাসনব্যবস্থায় সৃষ্ট ক্ষোভ, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, গণমাধ্যম ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ এবং জনগণের জমে থাকা অসন্তোষই আন্দোলনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

লেখকের মতে, জুলাই আন্দোলন ‘বিপ্লব’ না ‘গণঅভ্যুত্থান’—এ ধরনের বিতর্কের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এর ফলাফল। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন একটি শক্তিশালী সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি আদায় করেছে, যা জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

প্রবন্ধে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের অর্জন টেকসই করতে হলে শুধু সরকার পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর সংস্কার। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব কমানো এবং কার্যকর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

লেখক দাবি করেন, বিএনপি জুলাই আন্দোলনের রাজনৈতিক ফলাফলের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। তাই দলটির উচিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।

তিনি বলেন, সরকার সনদ পুরোপুরি পরিত্যাগ করেনি, তবে বাস্তবায়নের গতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বর্তমান সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। এর ফলে কাঠামোগত সংস্কারের কাজ প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, সংবিধান সংস্কারের জন্য বিএনপি জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। তবে বিরোধী পক্ষগুলো দাবি করছে, জুলাই সনদে প্রস্তাবিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সংস্কার হওয়া উচিত।

লেখকের মতে, জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই আন্দোলনের উত্তরাধিকার হিসেবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং জনগণের প্রতি একটি নৈতিক দায়িত্ব।

দ্য ডেল্টাগ্রাম থেকে অনূদিত ও সংক্ষেপিত
লেখক: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদুল আনাম খান


BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।