শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

টঙ্গীবাড়ীতে ড্রাম ড্রেজারে খাল থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
টঙ্গীবাড়ীতে ড্রাম ড্রেজারে খাল থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন
টঙ্গীবাড়ীতে ড্রাম ড্রেজারে খাল থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন
0:00 / 0:00
1x
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পূর্ব আলদী এলাকায় সরকারি খালে ড্রাম ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি ভিডিও ফুটেজসহ উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো অভিযান বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। [video width="1920" height="1080" mp4="https://dainiktarmigan.com/wp-content/uploads/2026/07/Untitled-design-2026-07-18T144411.554.mp4"][/video]   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব আলদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে অবস্থিত সরকারি খালে দীর্ঘদিন ধরে ড্রাম ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম চলছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, উত্তোলিত বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি ও পুকুর ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ, কৃষিজমি ও আশপাশের অবকাঠামো ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন প্রকাশ্যেই ড্রেজারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তারা অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে অনেক সময় ভয়ভীতি ও চাপের মুখে পড়তে হয়। এ ঘটনায় এই প্রতিবেদক ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে অবহিত করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভিডিও ফুটেজ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি এবং ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের কার্যক্রমও বন্ধ হয়নি বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময় স্থানীয় মসজিদ ও মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে কার্যক্রমকে জনকল্যাণমূলক বা বৈধ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূর্ব আলদী এলাকার সরকারি খালে পরিচালিত ড্রেজার কার্যক্রমের সঙ্গে যুবদল নেতা সেলিম বেপারীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম বেপারী বলেন, তারা প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই কাজ করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সম্মতি রয়েছে। তবে এ দাবি নাকচ করে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, "আমি এ ধরনের কোনো অনুমতি দিইনি। অবৈধভাবে সরকারি খাল থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিক্রমপুরের পরিবেশ ও জলাশয় রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।" এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ড্রেজার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সরকারি জলাশয় রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে খালের অস্তিত্ব, কৃষিজমি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


টঙ্গীবাড়ীতে ড্রাম ড্রেজারে খাল থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পূর্ব আলদী এলাকায় সরকারি খালে ড্রাম ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি ভিডিও ফুটেজসহ উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো অভিযান বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। [video width="1920" height="1080" mp4="https://dainiktarmigan.com/wp-content/uploads/2026/07/Untitled-design-2026-07-18T144411.554.mp4"][/video]   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব আলদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে অবস্থিত সরকারি খালে দীর্ঘদিন ধরে ড্রাম ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম চলছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, উত্তোলিত বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি ও পুকুর ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ, কৃষিজমি ও আশপাশের অবকাঠামো ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন প্রকাশ্যেই ড্রেজারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তারা অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে অনেক সময় ভয়ভীতি ও চাপের মুখে পড়তে হয়। এ ঘটনায় এই প্রতিবেদক ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে অবহিত করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভিডিও ফুটেজ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি এবং ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের কার্যক্রমও বন্ধ হয়নি বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময় স্থানীয় মসজিদ ও মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে কার্যক্রমকে জনকল্যাণমূলক বা বৈধ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূর্ব আলদী এলাকার সরকারি খালে পরিচালিত ড্রেজার কার্যক্রমের সঙ্গে যুবদল নেতা সেলিম বেপারীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম বেপারী বলেন, তারা প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই কাজ করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সম্মতি রয়েছে। তবে এ দাবি নাকচ করে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, "আমি এ ধরনের কোনো অনুমতি দিইনি। অবৈধভাবে সরকারি খাল থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিক্রমপুরের পরিবেশ ও জলাশয় রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।" এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ড্রেজার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সরকারি জলাশয় রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে খালের অস্তিত্ব, কৃষিজমি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।