শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

রূপপুর প্রকল্পে ২৭ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির বিল ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ, বিশেষ নিরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
রূপপুর প্রকল্পে ২৭ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির বিল ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ, বিশেষ নিরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ
রূপপুর প্রকল্পে ২৭ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির বিল ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ, বিশেষ নিরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ
0:00 / 0:00
1x

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে যন্ত্রপাতি ক্রয় ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তরের (ফাপাড) বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২৭ কোটি টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের বিপরীতে বিল পরিশোধ করা হয়েছে ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

নিরীক্ষা অনুযায়ী, শুধু এই একটি ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১৮৭ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত রূপপুর প্রকল্পে ২৩০টি অডিট আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

নিরীক্ষকদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় নির্মিত গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২৩০টি অডিট আপত্তির মধ্যে ১২০টিই এই আবাসন প্রকল্প-সংক্রান্ত। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্মাণকাজ, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং বিল পরিশোধে অসঙ্গতি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়ায় পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। এর ফলে প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়প্রক্রিয়ার মধ্যেও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এছাড়া একটি ভবনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের সরকারি মূল্য যেখানে ছিল ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, সেখানে বিল করা হয়েছে ১৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

নিরীক্ষায় আলোচিত বালিশ কেনাকাণ্ডের বিষয়টিও উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০টি বালিশের প্রকৃত মূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, কিন্তু সেগুলো কেনা হয়েছে ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকায়। এতে সরকারের প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর জন্য হালনাগাদ কর্মপরিকল্পনা ও অসমাপ্ত কাজের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে, সাবেক পরিকল্পনা সচিব মো. মামুন আল রশিদ এবং টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান নিরীক্ষায় উঠে আসা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


রূপপুর প্রকল্পে ২৭ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির বিল ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ, বিশেষ নিরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে যন্ত্রপাতি ক্রয় ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তরের (ফাপাড) বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২৭ কোটি টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের বিপরীতে বিল পরিশোধ করা হয়েছে ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

নিরীক্ষা অনুযায়ী, শুধু এই একটি ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১৮৭ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত রূপপুর প্রকল্পে ২৩০টি অডিট আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

নিরীক্ষকদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় নির্মিত গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২৩০টি অডিট আপত্তির মধ্যে ১২০টিই এই আবাসন প্রকল্প-সংক্রান্ত। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্মাণকাজ, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং বিল পরিশোধে অসঙ্গতি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়ায় পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। এর ফলে প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়প্রক্রিয়ার মধ্যেও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এছাড়া একটি ভবনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের সরকারি মূল্য যেখানে ছিল ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, সেখানে বিল করা হয়েছে ১৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

নিরীক্ষায় আলোচিত বালিশ কেনাকাণ্ডের বিষয়টিও উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০টি বালিশের প্রকৃত মূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, কিন্তু সেগুলো কেনা হয়েছে ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকায়। এতে সরকারের প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর জন্য হালনাগাদ কর্মপরিকল্পনা ও অসমাপ্ত কাজের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে, সাবেক পরিকল্পনা সচিব মো. মামুন আল রশিদ এবং টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান নিরীক্ষায় উঠে আসা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।