শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

সাভারে ডিবির ৪ সদস্যের বিরুদ্ধে স্বর্ণালংকার লুট ও ঘুষ আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
সাভারে ডিবির ৪ সদস্যের বিরুদ্ধে স্বর্ণালংকার লুট ও ঘুষ আদায়ের অভিযোগ
সাভারে ডিবির ৪ সদস্যের বিরুদ্ধে স্বর্ণালংকার লুট ও ঘুষ আদায়ের অভিযোগ
0:00 / 0:00
1x
ঢাকার সাভারে মাদক উদ্ধারের নামে এক নারী পোশাক শ্রমিকের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণালংকার লুট এবং মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) চার সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রুমা আক্তার বন্যা বিচার চেয়ে ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই রাত ১১টার দিকে আশুলিয়া থানার ধামসোনা ইউনিয়নের ভাদাইল হাজী আলাউদ্দিন স্কুলসংলগ্ন নিজ বাসায় অবস্থানকালে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের মিন্টু রোডের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে বাসায় প্রবেশ করেন। পরে জানা যায়, অভিযুক্তরা ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর)-এর সদস্য। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন এসআই নাফিউল ইসলাম, এএসআই আব্দুস সালাম, কনস্টেবল মো. আইয়ুব আলী, কনস্টেবল মো. মাহবুব, সোর্স মো. আমিনুল এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার স্বামী আরিফ হোসেনকে মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়ে বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। তবে কোনো মাদকদ্রব্য না পেলেও তাকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। রুমা আক্তার বন্যার ভাষ্য, দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও গালিগালাজ করা হয়। পরে জামালপুরে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকাশের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা এনে দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা চলে যাওয়ার পর ঘরে ঢুকে দেখেন মালামাল এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। পরে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে রাখা একটি ব্যাগ থেকে তিনটি স্বর্ণের আংটি, একটি স্বর্ণের চেইন (আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা) এবং একটি মোবাইল ফোন খুঁজে পাননি। তার দাবি, তল্লাশির সুযোগে এসব মূল্যবান জিনিস নিয়ে গেছেন ডিবি সদস্যরাই। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই নাফিউল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার জানা আছে এবং অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি জানান, ডিবি টিমের সঙ্গে থাকা সোর্স মো. আমিনুল স্বর্ণালংকার আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন এবং তাকে খুঁজছে পুলিশ। ওসি আরও বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হিসেবে বিবেচিত হবে না।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
BD-24,.COM

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


সাভারে ডিবির ৪ সদস্যের বিরুদ্ধে স্বর্ণালংকার লুট ও ঘুষ আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image
ঢাকার সাভারে মাদক উদ্ধারের নামে এক নারী পোশাক শ্রমিকের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণালংকার লুট এবং মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) চার সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রুমা আক্তার বন্যা বিচার চেয়ে ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই রাত ১১টার দিকে আশুলিয়া থানার ধামসোনা ইউনিয়নের ভাদাইল হাজী আলাউদ্দিন স্কুলসংলগ্ন নিজ বাসায় অবস্থানকালে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের মিন্টু রোডের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে বাসায় প্রবেশ করেন। পরে জানা যায়, অভিযুক্তরা ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর)-এর সদস্য। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন এসআই নাফিউল ইসলাম, এএসআই আব্দুস সালাম, কনস্টেবল মো. আইয়ুব আলী, কনস্টেবল মো. মাহবুব, সোর্স মো. আমিনুল এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার স্বামী আরিফ হোসেনকে মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়ে বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। তবে কোনো মাদকদ্রব্য না পেলেও তাকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। রুমা আক্তার বন্যার ভাষ্য, দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও গালিগালাজ করা হয়। পরে জামালপুরে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকাশের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা এনে দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা চলে যাওয়ার পর ঘরে ঢুকে দেখেন মালামাল এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। পরে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে রাখা একটি ব্যাগ থেকে তিনটি স্বর্ণের আংটি, একটি স্বর্ণের চেইন (আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা) এবং একটি মোবাইল ফোন খুঁজে পাননি। তার দাবি, তল্লাশির সুযোগে এসব মূল্যবান জিনিস নিয়ে গেছেন ডিবি সদস্যরাই। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই নাফিউল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার জানা আছে এবং অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি জানান, ডিবি টিমের সঙ্গে থাকা সোর্স মো. আমিনুল স্বর্ণালংকার আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন এবং তাকে খুঁজছে পুলিশ। ওসি আরও বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হিসেবে বিবেচিত হবে না।

BD-24,.COM

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
মোবাইল: ০১৭৪৭২৪৩৬৩৭

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।